৮২৪ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন
খুলনায় রেকর্ড বৃষ্টিতে শহর অচল
খুলনায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনে নগরীর অধিকাংশ সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসাবাড়ি, দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকে।
রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষ প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রায় ৮২৪ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক এই প্রকল্প ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকে অনুমোদন পায়। সাত বছরে ১৯৮টি নালা পুনর্নির্মাণ ও ১০টি খাল খনন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ময়ূর নদীও। ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৩৪ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি, অনেক জায়গায় পরিকল্পনার ঘাটতি ও কাঠামোগত ত্রুটির কারণে প্রকল্পের বাস্তব সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ করছেন নগরবাসী।
বৃষ্টি হলেই নগরীর ২২টি খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কথা থাকলেও অধিকাংশই এখনো দখলমুক্ত হয়নি বা সংস্কার করা হয়নি। অনেক নালা রাস্তার চেয়ে উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি জমে দ্রুত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে শহরের বিকে রায় রোড, ডাকবাংলো মোড়, বাইতিপাড়া মোড়, রয়্যাল মোড়, বয়রা পুলিশ লাইন, নতুন রাস্তা মোড়, টুটপাড়া, লবণচরা, দোলখোলা মোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকা হাঁটু পানি ডুবে যায়। চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।
সরকারি সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সৈকত হাসান জানান, পরীক্ষার দিন রিকশা ভাড়াও দ্বিগুণ দিতে হয়েছে। রিকশাচালক মিলন মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে লোকজন রাস্তায় কম বের হয়, আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।
খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার জানান, ভৈরব ও রূপসা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নদীতে নামতে পারছে না। বরং জোয়ারের সময় পানি উল্টো শহরের দিকে উঠে আসছে। ফলে দ্রুত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান বলেন, খুলনা শহরের উচ্চতা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি পূর্ত বিভাগের কাজ ও রাস্তার বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বাঁধ ইতোমধ্যে কেটে দেয়া হয়েছে যাতে পানি বের হতে পারে। নালার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাম্প স্টেশন ও স্লুইসগেট সংস্কারের কাজ চলছে। এটি শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত খুলনায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বুধবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে।
নগরবাসী মনে করছেন, কেবল প্রকল্প ব্যয়ের অঙ্ক বাড়িয়ে নয়, বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নই খুলনাকে জলজটের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























