Sobar Desh | সবার দেশ রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০১, ১৬ আগস্ট ২০২৫

রাজশাহীতে আটক হলি আর্টিজান মামলার সন্দেহভাজন অনিন্দ্য

রাজশাহীতে আটক হলি আর্টিজান মামলার সন্দেহভাজন অনিন্দ্য
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় নাম উঠে এসেছিল মুনতাসিরুল আলম অনিন্দ্যের। এবার আবারও আলোচনায় এলো সেই নাম। শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অনিন্দ্যকে আটক করা হয়েছে।

অনিন্দ্য রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শফিউল আলম লাটকুর ছেলে। লাটকু ছিলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ আওয়ামী লীগ নেতা এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ভাই। সে হিসেবে অনিন্দ্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই। অনিন্দ্য পরিচালনা করতেন ‘ডক্টর ইংলিশ’ নামের একটি কোচিং সেন্টার, যা লিটনদের পৈতৃক বাড়িতেই অবস্থিত।

সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযানে সকাল থেকে কোচিং সেন্টার ঘিরে রাখা হয়। এরপর অনিন্দ্যসহ তাঁর দুই সহযোগী রবিন ও ফয়সালকে আটক করা হয়। স্বজনদের দাবি, রবিন মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং পরে কোচিং সেন্টার দেখাশোনার দায়িত্ব পান। ফয়সাল আগে মসজিদের খাদেম ছিলেন, পরে কোচিং সেন্টারে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

অভিযান শেষে সেনাবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেখান থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, সামরিক মানের দূরবিন ও স্নাইপার স্কোপ, ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, সাতটি বিদেশি ডেগার, পাঁচটি ওয়াকিটকি সেট, একটি সামরিক মানের জিপিএস, একটি টিজার গান, বিপুলসংখ্যক অব্যবহৃত সিম কার্ড, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ছয়টি কম্পিউটার, দেশি-বিদেশি মদ এবং ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে নাইট্রোজেন কার্টিজগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

অভিযান চলাকালে অনিন্দ্য দাবি করেন, একটি অস্ত্র তিনি পাশের পুকুরে ফেলে দিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালালেও সেটি উদ্ধার করা যায়নি। সেনাবাহিনী জানায়, এক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির পর এ অভিযান পরিচালিত হয়।

২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা ও গুলশানের হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি’ হিসেবে অনিন্দ্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গোয়েন্দারা অভিযোগ তুলেছিলেন, তিনি জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নেতা, যিনি পরিকল্পনা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। রিমান্ডে নেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি দুটি মামলাই এড়িয়ে যান।

এমনকি পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতের গোয়েন্দাদের কাছেও অনিন্দ্যের নাম ওঠে আসে—তাঁর সহপাঠী শরিফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, অনিন্দ্যের হাত ধরেই তিনি জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন।

অভিযান শেষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের মামলা ছাড়াও বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আলাদা মামলা হবে। অনিন্দ্যের জঙ্গি সম্পৃক্ততা যাচাই করে দেখা হবে এবং রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাঁর ভাষায়, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারই প্রমাণ করে এরা সাধারণ অপরাধী নয়, বড় ধরনের পরিকল্পনা থাকতে পারে।

সবার দেশ/এফও

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

কোথায় কত ঘুষ, জানাবে ‘ঘুষসাইট’
ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধের আলামত
‘হ্যাঁ অথবা না বলুন’—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে হাসনাত
ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেফতার
বাবার লাশ ফেলে কবরের জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ
৪৫ তেলবাহী ট্যাংকার কালো তালিকাভুক্ত করলো ইরান
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে চীনা রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী
এক রাতেই মতিঝিল আইডিয়ালের ৪৬ শিক্ষক বদলি
ফের দিল্লির রাজপথে সিজেপি
মার্কিন প্রতিনিধিদল মোবাইলের আলোয় দেখলেন জুলাই জাদুঘর
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে নামলে শত্রু ভাববে ইরান
অর্থ কমিটির বৈঠক অকার্যকর করার অভিযোগ হাসনাতের
হরমুজে ভাঙলো মার্কিন শক্তির দম্ভ
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে খরচ
প্রতিশোধ নয়, আত্মসম্মানের লড়াই ছিলো: কামিন্স
মেঘনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে জখম
ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
লংমার্চে বাধা এলে প্রতিহত করার ঘোষণা ১১ দলের