Sobar Desh | সবার দেশ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:২৫, ৩ অক্টোবর ২০২৫

কুষ্টিয়ার নেপালি পাড়া: বাংলার ভেতর এক খণ্ড নেপাল

কুষ্টিয়ার নেপালি পাড়া: বাংলার ভেতর এক খণ্ড নেপাল
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার মিলপাড়া এলাকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে এক টুকরো নেপাল। এখানে এখনও বাস করছে ২০টি নেপালি পরিবার, যারা বাংলার মাটিকে আপন করে নিয়েছেন, আবার বংশপরম্পরায় ধরে রেখেছেন পূর্বপুরুষের সংস্কৃতি। স্থানীয়দের কাছে এলাকা পরিচিতি পেয়েছে ‘নেপালি পাড়া’ নামে।

মোহিনী মিলে কাজ করতে এসেছিলেন পূর্বপুরুষরা

১৯০৮ সালে কুষ্টিয়ার বিখ্যাত মোহিনী মিলে কাজ করতে আসেন প্রায় ৫০টি নেপালি পরিবার। পরে মিল বন্ধ হয়ে গেলে অনেকেই ফিরে গেলেও ২০টি পরিবার থেকে যায় বাংলাদেশেই। এরপর থেকেই মিলপাড়া এলাকার এ অংশ পরিচিত হয় ‘নেপালি পাড়া’ নামে।

বাংলা ভাষায় অভ্যস্ত, সংস্কৃতিতে নেপালি

এখানে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাসরত নেপালিরা এখন বাংলাতেই কথা বলেন। তবে নিজেদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিও ধরে রেখেছেন। নেপালে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রয়েছে তাদের। সমাজপ্রধান রাজ বল্লভ যোশী বলেন, 

আমরা নেপালি হলেও বাংলা ভাষায় কথা বলি। আত্মীয়স্বজন এলে তাদের সঙ্গে অবশ্যই মাতৃভাষায় কথা বলি। এখানে বহু বছর ধরে আছি, এ জায়গাই আমাদের ঘরবাড়ি।

বাংলাদেশেই শিকড় গেড়ে বসতি

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পেরিয়ে এ নেপালি পরিবারগুলো এখন নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবেই মানেন। এক নেপালি বাসিন্দা বলেন, 

আমরা স্থানীয় হয়ে গেছি। এ জায়গা ছাড়া আর কোথাও ভালো লাগে না। নিজের দেশে গেলেও মনে হয় অচেনা হয়ে যাবো। আত্মীয়স্বজনরা ডাকলেও নেপালে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারবো না।

স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে জীবনযাপন

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও নেপালিদের আপন করে নিয়েছেন। একজন স্থানীয় বলেন, আমরা যেমন চলি, তারাও তেমনি চলে। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই আপন।

শিক্ষা-চাকরিতে নতুন প্রজন্ম

দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়ায় বসবাসের কারণে নেপালি পরিবারের সন্তানরা এখন স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করছে। অনেকে চাকরি করছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। আদি পরিচয় নেপালি হলেও বাংলাদেশই হয়ে উঠেছে তাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা।

কুষ্টিয়ার মিলপাড়ার এ ছোট্ট নেপালি পাড়া তাই আজও ধরে রেখেছে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত। এ যেন সত্যিই বাংলার ভেতর এক খণ্ড নেপাল।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮