Sobar Desh | সবার দেশ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭:০২, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

আহত অন্তত ১০

মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ছাত্রদল কর্মী নিহত

মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ছাত্রদল কর্মী নিহত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. সাজ্জাদ নামের ২৬ বছর বয়সী এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন, যখন আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জন। 

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে, যখন অন্ধকারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এ ঘটনা চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার সরানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন যুবদল নেতা এমদাদুল বাদশা, যিনি মেয়রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্য পক্ষটি ছিলো হুমায়ুন-বোরহান গ্রুপ, যারা বিএনপি নেতা মীর হেলালের অনুসারী বলে দাবি করা হয়। যদিও এ তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এলাকায় দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এ ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে, যেখানে মাদক ব্যবসা এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) আহতদের চিকিত্সা চলছে। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মো. সাজ্জাদ নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তার বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া আরও আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, এবং তাদের চিকিত্সা অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসা জিএম সালাউদ্দিন আসাদ, যিনি নিজেকে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করছে। তারা মেয়রের ছবি লাগিয়ে ব্যানার ঝুলিয়েছিলো। মেয়রের লোকেরা তা খোলার নির্দেশ দিলে আমাদের ছেলেরা ব্যানার খুলতে যায়। তখন তাদের তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে উদ্ধার করতে গেলে একটি ভবনের ছাদ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়, যাতে সাজ্জাদ মারা যায়। তিনি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের একটি উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা এমদাদুল বাদশা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বলেন, অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা এত অস্ত্র কোথা থেকে পেয়েছে? তাদের অস্ত্র উদ্ধার করা হোক। গুলি করার আগে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। তারা বিএনপির কেউ নয়; আগে যুবলীগ করত। ৫ আগস্টের পর যুবদলের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করছে। এখানকার মীর হেলাল গ্রুপের কেউ ছিলো না, সব মিথ্যা কথা। নিহত সাজ্জাদ ছাত্রদলের কর্মী ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, সোহান, বোরহান, হীরণ, ডাকাত বাদশা—এরা গুলি করেছে। তারা মাদকাসক্ত। এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যারা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। ওসি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, রাতের মধ্যেই আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

নিহত সাজ্জাদের বাবা মো. আলম, যিনি নিজেকে বিএনপির অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে বন্ধুরা ফোন করে ডেকে নিয়ে গেছে। কী নিয়ে ঝামেলা হয়েছে জানি না। আমি চাই, যারা আমার ছেলেকে মেরেছে, তাদের বিচার তারেক জিয়া ও মেয়রসহ দলের নেতারা দিন। তিনি এ ঘটনাকে তার পরিবারের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলে বর্ণনা করেছেন।

এই ঘটনা নিয়ে বাকলিয়া থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়নি। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং স্থানীয়রা আশা করছেন যে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেয়া হবে। 

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন