ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুনে বিপর্যয়
ভূমিকম্পে নরসিংদীতে অর্ধশতাধিক আহত
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে নরসিংদী ও আশপাশের এলাকায় অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্প কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৫.৫; উৎপত্তিস্থল ছিলো নরসিংদীর মাধবদী অঞ্চল। হঠাৎ কম্পনে ঘরবাড়ি দুলে ওঠায় মানুষজন ছুটে বের হয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভবন ধসে তিনজন আহত, ঢাকায় পাঠানো হয়েছে দুইজনকে
ভূমিকম্পের সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে নরসিংদী শহরের গাবতলী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ছয়তলা নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ভেঙে পাশের একতলা বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেন, তার ছেলে ওমর এবং মেয়ে তাসফিয়া আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তিনজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
সদর হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে দেলোয়ার ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ছয় উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতি
নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসূত্র জানায়, সদরসহ অন্তত ছয়টি উপজেলায় ছোট-বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক বাড়িতে দেয়ালে ফাটল, ছাদে চিড় ধরা, বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ নানা ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গুলশানা কবির জানান, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গেই ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন
ভূমিকম্পের ঠিক পরপরই নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাব-স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সাব-স্টেশনের একটি যন্ত্রাংশে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের পলাশ স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল শহিদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণে জাতীয় গ্রিডে ওই অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক বলেন, ভূমিকম্পের প্রভাবে যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠে কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভূমিকম্পের পরপরই মানুষ এখনও আতঙ্কে রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























