তদন্তে নেমেছে অ্যাকটিভিস্ট দল
পানিতে ডুবিয়ে ৮ কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি খাতুন গ্রেফতার
পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার বেদনাবহ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নিশি খাতুন নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে থানার একটি টিম তাকে নিজ বাসা থেকে আটক করে।
ঘটনাটি সামনে আসে গত রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর। ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে গেজেটেড ভবনে বসবাসরত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি খাতুন আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন সোমবার সকালে ঘটনাটি নিশ্চিত করেন ইউএনও কার্যালয়ের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, কর্মকর্তা দম্পতির ছোট ছেলে নিজেই তাকে জানায়—তার মা কুকুরছানাগুলোকে পুকুরে ফেলে দিয়েছেন। পরে পুকুর থেকে বস্তা খুলে আটটি মৃত ছানা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে তৎপর হয় স্থানীয় প্রশাসন। ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারায় সোমবার রাতেই নিশি খাতুনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালকের পক্ষে তিনি এ মামলা দায়ের করেন।
এদিকে বিষয়টি ‘অমানবিক ও নৃশংস’ উল্লেখ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে ঢাকার এনিমেল অ্যাকটিভিস্ট কমিটির একটি বিশেষ টিম, যারা মঙ্গলবার বিকেলেই ঈশ্বরদীতে পৌঁছে প্রাথমিক জবানবন্দি সংগ্রহ শুরু করে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিযুক্তের স্বামী নয়ন ও তার পরিবারকে দ্রুত সরকারি কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়। ইউএনও জানান, মঙ্গলবারই তাদের বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয় এবং তারা রাতেই কোয়ার্টার ত্যাগ করেন।
কুকুরছানাগুলোকে হত্যা করার এ নৃশংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তদন্ত কমিটি ও পুলিশ বলছে, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























