এবার মিলেছে প্রায় ১২ কোটি টাকা
সব রেকর্ড ভাঙলো পাগলা মসজিদের দান
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবারও দানে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিনভর গণনার পর দানবাক্স ও অনলাইনে জমা হওয়া দানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৪৮১ টাকা। এর মধ্যে সরাসরি দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা এবং দেশ-বিদেশ থেকে অনলাইনে দান এসেছে ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৩ টাকা।
টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা-রুপার অলংকারও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়। এবার ৩ মাস ২৭ দিনে জমা হওয়া টাকার পরিমাণ আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
দিনভর চলল গণনার কর্মযজ্ঞ
সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ বিশাল গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় ৫০০ জন মানুষ। এর মধ্যে ছিলেন:
- মাদ্রাসার শিক্ষার্থী: পাগলা মসজিদ ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩৬০ জন ছাত্র।
- ব্যাংক কর্মকর্তা: রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
- মসজিদ স্টাফ ও পুলিশ: মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে চূড়ান্ত হিসাব সম্পন্ন হয়। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ গণনার ফল নিশ্চিত করেন।
১১৫ কোটি টাকার তহবিল ও আধুনিক কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মসজিদের তহবিলে বর্তমানে মানুষের দানের ১০৪ কোটি টাকা জমা ছিলো। আজকের প্রাপ্তিসহ মোট জমার পরিমাণ ১১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলো।
এই বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান:
- ১০ তলা ভবন: মসজিদ কেন্দ্রিক একটি আধুনিক ১০ তলা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
- বিবিধ সুবিধা: সেখানে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, আইটি সেকশন, অনাথ ও এতিমদের জন্য আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্যাফেটেরিয়া থাকবে।
- নকশা চূড়ান্ত: ইতোমধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বিশেষজ্ঞরা একটি নকশা মনোনীত করেছেন। দ্রুতই কাজের আদেশ দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল পাগলা মসজিদ
নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এ মসজিদে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দান করেন। তাদের বিশ্বাস, এখানে দান করলে রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। টাকার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা নিয়মিত হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল ও মূল্যবান সামগ্রী দান করেন, যা পরে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে ফান্ডে জমা করা হয়। দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা ব্যাংকে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটির নিরাপত্তা তদারকি করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন।
সবার দেশ/কেএম




























