গুলিবিদ্ধ শিশু আশঙ্কাজনক
পালিয়ে আসা মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য আটক
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে। সংঘাত থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তত ৪৯ সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া অনুপ্রবেশের সময় আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। একই ঘটনায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে একটি বাংলাদেশি শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছাব্রিজ ও লম্বাবিল সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে তাদের হেফাজতে নেয়। আটক ও আত্মসমর্পণ করা ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অংশে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত ঘণ্টাব্যাপী তীব্র গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের বসতঘরে আঘাত হানে। এতে আফনান নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। শিশুটিকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
শিশুটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ প্রধান সড়কের লম্বাবিল ও তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় সাময়িক সড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির আওয়াজ শুনে আতঙ্কিত। অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্তবাসীকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শিশুর পরিবারের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিজিবি ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























