প্রতিমন্ত্রী অমিতকে ঘিরে উৎসবের নগরী যশোর
খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই যেন যশোর শহরের বাইরে পাঁচটি উপজেলা বাতাস বদলে গেলো। বিকেল গড়ানোর আগেই লালদীঘির দলীয় কার্যালয় চত্বর ভরে উঠল নেতাকর্মীদের কণ্ঠে কণ্ঠে স্লোগানে। রঙ ছিটিয়ে একে অন্যকে রাঙিয়ে দিলেন তারা, মুখে হাসি—হাতে মিষ্টির প্যাকেট।
যদিও গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে প্রয়াত মন্ত্রী যশোর উন্নয়নের কারিগর তরিকুল ইসলাম পুত্র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলামকে মন্ত্রী করা হচ্ছে। এ খবরের সত্যতা মেলে আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীসভায় শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে। এতেই আনন্দের ঢেউ উপচে পড়ে শহর ছাপিয়ে গ্রামাঞ্চলে।
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করায় এমন উচ্ছ্বাসে ভাসছে তার নিজ জেলায়।
বিকেল ৫টায় জেলা বিএনপির ব্যানারে বের হয় আনন্দ মিছিল। দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে দড়াটনা, মুজিব সড়ক, জজ কোর্ট মোড়, মাইকপট্টি ঘুরে আবার কার্যালয়ে ফিরে আসে মিছিল। পুরো পথজুড়ে নতুন প্রতিমন্ত্রীর নামে স্লোগান আর শুভেচ্ছার ঢেউ।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এ দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়—যশোরসহ সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা। এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
বাবার পথ ধরে মন্ত্রিসভায়
অমিতের রাজনৈতিক পথচলা অনেকটাই পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। তার বাবা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলাম চারবার মন্ত্রীত্ব সামলে ছিলেন। বাবার জীবদ্দশায় জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন অমিত।
বাবার মৃত্যুর পর সংগঠনের নেপথ্য কারিগর হিসেবে ভূমিকা রাখেন। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আস্থা অর্জন করেন। খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও নানা প্রতিকূলতায় জয় পাননি। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে যশোর-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী পান ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট।
১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট জন্ম নেয়া অমিত ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স এবং পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে টিভি বিতর্কে নেতৃত্ব, ব্যবসা ও সামাজিক সংগঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক পরিচয়ে গড়ে উঠেছে তার প্রোফাইল।
প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে যশোরের বেনাপোর সীমান্ত প্রেসক্লাব । সভাপতি মো,শাহিদুল ইসলাম শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মো,আইব হোসেন এক বার্তায় বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি সংবাদপত্রবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসেবে অমিতের এ অর্জন যশোর জেলার জন্য গৌরবের।
সবার দেশ/কেএম




























