পেটভর্তি ইয়াবাসহ শার্শার মাসুদ রানা আটক
প্রায় রাত তখন দেড়টা। শহর যশোর ধীরে ধীরে ঘুমে ঢলে পড়েছে। কিন্তু মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিলো অদৃশ্য এক উত্তেজনা। আলো-আঁধারির ভেতর দিয়ে চলছিলো নজরদারি। হঠাৎই থেমে যায় এক যুবকের পথচলা—আর সেখান থেকেই শুরু হয় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার পর্দা উন্মোচন।
যশোরে পেটভর্তি ইয়াবাসহ মাসুদ রানা (২০) নামে এক যুবককে আটক করেছে র্যাব-৬-এর সদস্যরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)গভীর রাতে শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
আটক মাসুদ রানা যশোরের শার্শা উপজেলার গোরপাড়া কলোনিপাড়ার হোসেন আলীর ছেলে।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন—এক যুবক বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহন করে যশোর হয়ে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিকল্পনা করা হয়। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয় র্যাবের একটি দল। সন্দেহভাজন হিসেবে মাসুদ রানাকে আটক করা হলে শুরু হয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।
প্রথমে গড়িমসি, তারপর ভেঙে পড়ে স্বীকারোক্তি। জানা যায়, তার পেটের ভেতরে রয়েছে আনুমানিক ২ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। মাদকগুলো কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করে তিনি পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন। নিজের শরীরকেই বানিয়েছিলেন গোপন চালান বহনের মাধ্যম—যা শুধু অবৈধই নয়, প্রাণঘাতী ঝুঁকিতেও ভরা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বুধবার সকালে তাকে র্যাবের কড়া পাহারায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে তার পেট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট বের করার প্রক্রিয়া চলছে। পুরো ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ছিলো সতর্কতা।
র্যাব জানায়, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মাদক চক্রের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ও সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নিঃশব্দ রাতের সে অভিযান আবারও স্মরণ করিয়ে দিলো—মাদকের অন্ধকার জগত কতটা ভয়াবহ, আর তার শিকড় কত গভীরে বিস্তৃত।
সবার দেশ/কেএম




























