সংরক্ষিত নারী আসনে নাদিয়া পাঠানের মনোনয়ন ঘিরে আলোচনার ঝড়
আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে হচ্ছেন বিএনপির এমপি
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন। তার মনোনয়নকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশেষ করে তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে ওঠে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনের তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম রয়েছে ৩২ নম্বরে।
নাদিয়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেন ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে। তার মা স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবনে নাদিয়া দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে রাজধানীর বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সম্পৃক্ততা নতুন নয়। জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে সক্রিয় থাকায় একাধিকবার পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
নাদিয়ার মনোনয়নকে ঘিরে আলোচনা আরও জোরদার হয় যখন উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা জাহাঙ্গীর মৃধা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি তার পোস্টে নাদিয়ার মা সৈয়দা নাখলু আক্তারের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—একই পরিবারে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থাকতেই পারে।
স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন অনেকে। দলীয় বিভাজন পেরিয়ে বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে নাদিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা আলোচনা প্রসঙ্গে নাদিয়া পাঠান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকলেও তখন কেউ প্রশ্ন তোলেনি। যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখন তার মূল লক্ষ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করা।
তার এ মনোনয়ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা—পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানই এখন হয়ে উঠছে মূল বিবেচ্য বিষয়।
সবার দেশ/কেএম




























