Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২২, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

ট্রাইব্যুনালে ‘দেয়াল’ উপন্যাসের উদ্ধৃতি

নববধূ ধর্ষণের পর মোজাম্মেল বলেন— তুচ্ছ বিষয়, বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আ. ক. ম. মোজাম্মেল হকের পুরনো ধর্ষণ-হত্যা কাণ্ড উঠল ট্রাইব্যুনালে

নববধূ ধর্ষণের পর মোজাম্মেল বলেন— তুচ্ছ বিষয়, বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে সোমবারের (১৩ অক্টোবর) শুনানি যেন এক ব্যতিক্রমী দিন। যুক্তিতর্কে আইনজীবীর মুখে উঠে এলো হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস— আর সে উপন্যাসের চরিত্র হয়ে হাজির হলেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত এক সাবেক নেতা, যার অতীত রক্তাক্ত।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১–এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্কে বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি থেমে গেলেন, তারপর বললেন—

এই সেই মোজাম্মেল, যিনি ১৯৭২ সালে নববধূকে ধর্ষণের পর হত্যা করে গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাড়া পান।

ট্রাইব্যুনালে হুমায়ূনের ‘দেয়াল’

তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন হুমায়ূন আহমেদের ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘দেয়াল’–এর একটি অংশ। তিনি বলেন— আমি গতকাল এই উদ্ধৃতি দাখিল করেছি। আজ আদালতের অনুমতি নিয়ে পৃষ্ঠা ৮৫ থেকে পড়ছি।

উপন্যাসে বর্ণিত কথোপকথন অনুযায়ী, মোজাম্মেলকে মেজর নাসের টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করেছিলেন এক নববধূ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে। পরে তার আত্মীয়রা বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ে কেঁদে ক্ষমা চান। বঙ্গবন্ধু বলেন—

কান্দিস না। কান্দার মতো কিছু ঘটে নাই। আমি এখনও বেঁচে আছি... ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এবং মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন।

এরপর তাজুল ইসলাম উদ্ধৃত করেন ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বই Bangladesh: A Legacy of Blood–এর বর্ণনা:

এক নবদম্পতি গাড়িতে যাচ্ছিলো। সন্ত্রাসী মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়ি আটকায়। ড্রাইভার ও স্বামীকে হত্যা করে, নববধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। মেয়েটির লাশ তিন দিন পর টঙ্গী ব্রিজের নিচে পাওয়া যায়।

মেজর নাসেরের হাতে ধরা পড়লে মোজাম্মেল বলেছিলো—

ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে তিন লাখ টাকা দেবো। এটা তুচ্ছ বিষয়, বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না।

নাসের উত্তরে বলেন—

তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো। আমি তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবো।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাসের ব্যর্থ হন—বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মোজাম্মেল ছাড়া পান।

‘চেতনা জমা দেইনি’ মন্তব্যও তুললেন প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটর বলেন,

এই সেই মোজাম্মেল, যিনি গত বছর ১৮ জুলাই প্রকাশ্যে বলেছিলেন— আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অস্ত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু ট্রেনিং জমা দেইনি, চেতনা জমা দেইনি। এ মন্তব্য এবং তার অতীত—দুই-ই রাষ্ট্রীয় দণ্ডবিধির আলোকে গুরুত্বপূর্ণ।

তাজুল ইসলামের বক্তব্যে আদালতঘরে নীরবতা নেমে আসে। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার তখন বলেন—

উদ্ধৃতির ঐতিহাসিকতা যাচাই করা হবে, তবে এই উদ্ধৃতি আজকের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ, রাজনৈতিক ছায়া

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৭২ সালে, স্বাধীনতার পরপরই। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ নির্দেশে ওই হত্যাধর্ষণ মামলায় মোজাম্মেল হক মুক্তি পান—এ তথ্য ‘দেয়াল’ ও ‘Legacy of Blood’–এ স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধের ‘আদর্শ’ এবং নৃশংস অপরাধের এই বৈপরীত্য আজ আবার ফিরে এলো আদালতের কাঠগড়ায়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন