ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত তেহরানের
যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাত
► নতুন করে ইরানের ৮০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ► বাহরাইন-কুয়েতে ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা ► ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহত ৭
যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নতুন করে ইরানের অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সময়ে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরনগরী, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, খারগ দ্বীপসহ ৮০টির বেশি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় সিরিক, কেশম, বন্দর আব্বাস ও খারগ দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, হামলার বেশিরভাগই বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সিরিকের একটি বাণিজ্যিক জেটিতে বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।
মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রাথমিক জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা এখন শেষ। তাদের সঙ্গে কাজ করা সময়ের অপচয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না এবং এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কিংবা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
গালিবাফের দাবি, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হামলা, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আক্রমণ, তেল খাতের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা—সবই দুই দেশের মধ্যে হওয়া ১৪ দফা সমঝোতার লঙ্ঘন।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণে অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের তেল রফতানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ বিভাগ ইরানের তেল রফতানির জন্য দেয়া বিশেষ অনুমোদনের মেয়াদ কমিয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























