Sobar Desh | সবার দেশ নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৫, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্দোলনের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার পরীক্ষায়

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, সামনে ১০ চ্যালেঞ্জ

আন্দোলনের সাফল্যকে সুশাসনে রূপ দেয়া, অর্থনীতি সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। দল ও সরকার—দুই মঞ্চেই চ্যালেঞ্জ; শৃঙ্খলা ও জনআস্থা ধরে রাখাই বড় দায়।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, সামনে ১০ চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বহুবার ক্ষমতায় এসেছে, আবার দীর্ঘ সময় বিরোধী দলেও থেকেছে। আন্দোলন, রাজনৈতিক সংকট, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দলটি দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসায় বিএনপিকে এখন একই সঙ্গে দুটি ফ্রন্টে পরীক্ষা দিতে হবে—একদিকে দলকে সাংগঠনিকভাবে সংহত রাখা, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় সরকারের সমালোচনা করা তুলনামূলক সহজ; কিন্তু ক্ষমতায় থেকে একই সমস্যার কার্যকর সমাধান দেওয়া অনেক কঠিন। ফলে বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দীর্ঘ আন্দোলনে অর্জিত জনসমর্থনকে কি তারা কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক আস্থায় রূপান্তর করতে পারবে?

এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে আগামী দিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর।

১. দল ও সরকারের মধ্যে সীমারেখা

ক্ষমতাসীন দলের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক ঝুঁকি হচ্ছে দলীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া। বিএনপির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যেনো দলীয় বিবেচনায় প্রভাবিত না হয় এবং দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যেনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত না করে—এ ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পারলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে। বিপরীতে দলীয় প্রভাব প্রশাসনে দৃশ্যমান হলে বিএনপির দীর্ঘদিনের সুশাসনের প্রতিশ্রুতিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

২. ক্ষমতার সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলের নেতা-কর্মীরা যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন, তখন প্রত্যাশা ও সুযোগ—দুটিই বাড়ে। এখানেই তৈরি হয় ঝুঁকি।

চাঁদাবাজি, দখল, টেন্ডারবাজি, প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার কিংবা পদ-পদবি ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগ বিএনপির জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

ফলে শুধু সাংগঠনিক নির্দেশনা নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়ার সক্ষমতাই দলীয় শৃঙ্খলার প্রকৃত পরীক্ষা হবে।

৩. নতুন-পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়

বিএনপির নেতৃত্বে যেমন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের নেতাদেরও ক্রমশ সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের আধুনিক চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলে দল ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো পেতে পারে।

কিন্তু নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস যদি অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্ম দেয়, তাহলে সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

৪. আন্দোলনের জনসম্পৃক্ততা ধরে রাখা

বিরোধী রাজনীতিতে বিএনপির অন্যতম শক্তি ছিলো জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। ক্ষমতায় এসে সে সম্পর্ক কতটা অটুট রাখা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ক্ষমতার কেন্দ্র এবং তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে তার মূল্য দিতে হতে পারে। জনগণের অভিযোগ শোনা, স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা সমাধান এবং সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।

জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ শুধু নির্বাচনের সময় নয়, প্রতিদিনের রাজনীতির অংশ করতে হবে।

৫. সাংগঠনিক পুনর্গঠন

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন এখন একটি বড় সাংগঠনিক কাজ। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্বের কাঠামোকে কার্যকর করতে না পারলে ক্ষমতার সুবিধা দলীয় সংগঠনকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার বদলে উল্টো দুর্বল করে দিতে পারে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় পাঁচ বড় পরীক্ষা

৬. অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি

রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক পরীক্ষা অর্থনীতি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হবে।

এখানে সরকারের জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় হবে সময়। অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল পেতে সময় লাগে; কিন্তু জনগণ দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চায়।

অর্থনীতিতে দ্রুত স্বস্তি দিতে না পারলে রাজনৈতিক প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

৭. সুশাসন ও প্রশাসনিক সংস্কার

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে এসেছে। এখন সে সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাদের।

প্রশাসনে জবাবদিহিতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে জনগণ।

বিশেষ করে নিজেদের দলের কেউ অনিয়মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কি না—এটি সুশাসনের সবচেয়ে দৃশ্যমান পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

৮. রাজনৈতিক ঐক্য অটুট রাখা

ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক জোট বা যুগপৎ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা যেমন ছিলো, ক্ষমতায় এসে সমীকরণটি তেমনই পরিবর্তিত হতে পারে।

সমমনা দলগুলোর রাজনৈতিক প্রত্যাশা, নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বিএনপিকে তাই একদিকে নিজের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগীদের সঙ্গেও আস্থার সম্পর্ক ধরে রাখতে হবে।

৯. জনগণের প্রত্যাশার চাপ

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় বিএনপিকে ঘিরে মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ক্ষমতায় এসে তার বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

মানুষ চায় দ্রব্যমূল্যের স্বস্তি, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি কমানো, দ্রুত সরকারি সেবা এবং একটি কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।

সরকার যদি এসব ক্ষেত্রে দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে রাজনৈতিক আস্থা শক্তিশালী হবে। আর প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান বাড়তে থাকলে সে আস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।

১০. আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

সরকারের জনপ্রিয়তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ, চাঁদাবাজি, দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা জননিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তিতে দ্রুত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বিএনপির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে—আইনের প্রয়োগে দলীয় পরিচয় কোনও প্রভাব ফেলছে কি না।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও একই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হলে সরকারের নিরপেক্ষতার বার্তা জনগণের কাছে শক্তিশালী হবে।

৪৮ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি আরও বিস্তৃত সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করে।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে যেমন ক্ষমতার অধ্যায় রয়েছে, তেমনি রয়েছে দীর্ঘ বিরোধী দলীয় রাজনীতি ও আন্দোলনের ইতিহাস। সাম্প্রতিক দেড় দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন ছিলো দলটির জন্য দীর্ঘ ও কঠিন অধ্যায়।

এখন সে আন্দোলনের পরিণতিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বিএনপি এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি বর্তমানের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য দিয়েও নিজেদের মূল্যায়ন করাতে হবে।

মূল কথা

বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসলে ১০টি আলাদা বিষয় নয়; এগুলো পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

  • অর্থনীতি খারাপ হলে জনঅসন্তোষ বাড়বে।
  • আইনশৃঙ্খলা দুর্বল হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
  • দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে প্রশাসনেও তার প্রভাব পড়বে।
  • জনসম্পৃক্ততা কমলে রাজনৈতিক সমর্থনের ভিত্তি দুর্বল হবে।
  • আর সুশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে বিএনপির রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিই প্রশ্নের মুখে পড়বে।

অন্যদিকে এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করতে পারলে বিএনপি শুধু একটি নির্বাচনী বিজয়কে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বৈধতা ও জনআস্থায় রূপান্তর করার সুযোগ পাবে।

শেষ কথা

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপি তাই একদিকে অতীতের সংগ্রাম ও অর্জন স্মরণ করছে, অন্যদিকে প্রবেশ করছে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায়।

বিরোধী দলের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা—এ উত্তরণই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ক্ষমতায় আসা ছিলো একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য; কিন্তু জনগণের আস্থা ধরে রেখে সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই হবে ইতিহাসে বিএনপির নতুন অধ্যায়।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

ফিল্মি কায়দায় নববধূ ‘ছিনতাই’! যা বললেন কনে তামান্না
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, সামনে ১০ চ্যালেঞ্জ
ঢাবির মেয়েদের হল বন্ধ রাত ১১টায়
নবম পে-স্কেল অনুমোদন: কার বেতন কত
নেপালে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি
জামালপুরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ৪
ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর
শিল্প কোনও পাপ নয়: প্রভা
মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা
দেশে প্রথম রোবটিক সার্জারি, প্রথম দিনে ২ রোগীর অস্ত্রোপচার
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে গুডবাই বললেন মেসি
পূজার আগেই পাকিস্তানের হামলার প্রস্তুতিতে শঙ্কিত ভারত
‘ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম’ মন্তব্যে কর্ণাটকের মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির
মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব, জর্ডানে ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
৬ মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি: সংসদীয় কমিটি
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু প্রায় ৮০০, নিখোঁজ আড়াই হাজার
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে ইতিবাচক অগ্রগতি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ডুবে ডুবে নৌকা খুঁজলে ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলবে জনগণ-রুমিন ফারহানাকে হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের