যান চলাচল বন্ধ
কুয়েট ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগ ব্লকেড
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং আশপাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ চত্বরে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন। এ কর্মসূচির কারণে শাহবাগের চার রাস্তার মোড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দেয়।
শিক্ষার্থীরা ব্লকেডের সময় শাহবাগ চত্বর অবরোধ করে কুয়েট ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে কুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এর আগে, ঢাবি’র রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিক্ষার্থীরা সমাবেশ করে কুয়েট প্রশাসনের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি ও ৩৭ জন শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
কুয়েটে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধকরণসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। সম্প্রতি, ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা আন্দোলনকে আরও তীব্র করে। বর্তমানে ৩২ জন কুয়েট শিক্ষার্থী ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শাহবাগে ব্লকেডের সময় শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি মোহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরে প্ররোচনা দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করেছেন। তারা অবিলম্বে ভিসির পদত্যাগ এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এদিকে, কুয়েট ভিসি মোহাম্মদ মাছুদ দাবি করেছেন, অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নন এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরতে চান। তিনি পদত্যাগের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছেন বলে জানান।
শাহবাগে ব্লকেডের ফলে ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়, যা রাতভর যাত্রীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























