Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:২৪, ৪ আগস্ট ২০২৫

২৩ বিষয় নিয়ে যাত্রা শুরু করছে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’

২৩ বিষয় নিয়ে যাত্রা শুরু করছে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্তি বাতিল ও স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন, দফায় দফায় সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর অবশেষে সমাধানের পথে অগ্রসর হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সংকট। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা কমিটি ও পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির একাধিক বৈঠক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে ঢাবির অধিভুক্তি বাতিল করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করা হয়। নানা ধাপ পেরিয়ে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’।

প্রথম পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। ধাপে ধাপে এর পরিসর বাড়ানো হবে। বিশেষত্ব হলো, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থাকবে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসের শেষেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং এর পরপরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে নিয়োগ দেওয়া হবে একজন উপাচার্য (ভিসি), দুজন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক ও প্রশাসনিক), একজন কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) এবং একজন প্রক্টরসহ ১৫ সদস্যের প্রক্টরিয়াল বডি। বর্তমানে জাতীয় সংসদ না থাকায় আইন পাসের সুযোগ নেই, তাই আপাতত রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হবে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম হবে ইন্টারডিসিপ্লিনারি (বিভিন্ন শাখার সমন্বয়) এবং হাইব্রিড (অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতির সমন্বয়)। ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে এবং ৬০ শতাংশ অফলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষা অবশ্যই সরাসরি দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা প্রথম চার সেমিস্টারে নন-মেজর এবং পরবর্তী চার সেমিস্টারে মেজর কোর্স সম্পন্ন করবেন। পঞ্চম সেমিস্টারে শর্তসাপেক্ষে ডিসিপ্লিন পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও কলেজ পরিবর্তন করা যাবে না।

২০১৭ সালে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সাত কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে সেশনজট, ফল প্রকাশে বিলম্ব, শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকট এবং সার্টিফিকেট প্রদান জটিলতা তৈরি হয়। এই সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং অবশেষে সরকার পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া অনুযায়ী, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চারটি প্রধান স্কুলে বিভক্ত হবে। স্কুল অব সায়েন্স পরিচালিত হবে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ এবং বদরুন্নেসা কলেজ থেকে। স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ পরিচালিত হবে সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে। স্কুল অব বিজনেস স্টাডিজ পরিচালিত হবে সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে। আর স্কুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিস পরিচালিত হবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে। প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের অব্যবহৃত ২৫ একর জমিতে। সেখানে প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি, মেডিকেল সেন্টার এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে একাডেমিক কাউন্সিল, সিনেট ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। কলেজগুলো স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ের শিক্ষা প্রদান করবে, তবে পাঁচটি কলেজে আগের মতোই একাদশ শ্রেণি চালু থাকবে। ইডেন ও কবি নজরুল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় নতুন করে চালু করা হবে। স্নাতক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা টাইম, স্পেস ও রিসোর্স শেয়ারিং পদ্ধতিতে একই ক্যাম্পাস ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া কেন্দ্রীভূতভাবে পরিচালিত হবে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের এসএসসি এবং ২০২৩ বা ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে সাত কলেজের জন্য যারা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। যারা আবেদন প্রত্যাহার করতে চান, তারা ৩ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে তা করতে পারবেন এবং তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। নতুন আবেদন একই সময়ের মধ্যে অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। ভর্তি পরীক্ষা ২২ ও ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষা ২২ আগস্ট, বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষা ২৩ আগস্ট সকাল এবং ব্যবসা অনুষদের পরীক্ষা ২৩ আগস্ট বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। প্রবেশপত্র ১৭ আগস্ট থেকে এবং আসনবিন্যাস ২০ আগস্ট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা চার ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে খসড়া আইন প্রণয়ন, অনুমোদন এবং অধ্যাদেশ জারি করা হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। পরবর্তী ধাপে উপাচার্য নিয়োগসহ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজে ছেলেদের এবং ঢাকা কলেজে মেয়েদের প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির নজির না থাকায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, যেহেতু শিক্ষা উপদেষ্টা আজ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন, তাই আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমাদের প্রস্তাব ছিল, প্রতিটি কলেজের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে হবে। যেমন ঢাকা কলেজ ছেলেদের এবং ইডেন-বদরুন্নেসা মেয়েদের জন্য। এগুলো যেন মিশ্র না হয়।

আজ সোমবার শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানাবেন।

সবার দেশ/এফএস 

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন