প্রাণহানি ও ব্যাপক সরিয়ে নেয়া
দাবদাহে জ্বলছে ইউরোপ, ফ্রান্স-স্পেন-গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল
তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, শুষ্ক বনাঞ্চল এবং ঝোড়ো বাতাসের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন ও গ্রিসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনরাত কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। কোথাও আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন নতুন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্পেনে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসায় জরুরি সতর্কতার মাত্রা কমানো হয়েছে। তবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০টি বড় দাবানল এখনো সক্রিয় রয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, মাদ্রিদ ও কাস্তিয়া ই লেওন অঞ্চলের সীমান্তে চলা বড় দাবানলের জরুরি পরিস্থিতির মাত্রা কমানো হয়েছে। রাতের তুলনামূলক অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগে দমকলকর্মীরা আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তবুও রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমে সান হুয়ান জলাধার সংলগ্ন এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া প্রায় এক হাজার বাসিন্দা এখনও বাড়ি ফিরতে পারেননি।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দোর কাছে দাবানলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি ও আশপাশের এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনের কারণে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে এবং কয়েক দিন আংশিকভাবে বন্ধ থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের ঘটনায় অগ্নিসংযোগের সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে গ্রিসে দাবানলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ক্রিট দ্বীপে আগুনের দুটি সম্মুখভাগের মাঝখানে আটকা পড়ে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পেলোপনিস অঞ্চলের পৃথক একটি দাবানলে আরও এক দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ক্রিয়া ভ্রিসি ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অনেককে স্থলপথের পাশাপাশি নৌকাযোগেও উদ্ধার করা হয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পূর্বাঞ্চলের ডানউইচ হিথ এলাকাতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের ঝুঁকিতে প্রায় ২০০টি ক্যারাভান সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক উদ্ভিদের কারণে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বছর ইউরোপে দাবানলের মৌসুম গড়ের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ ২০২৫ সালের রেকর্ডও অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























