কেন্দ্রবিন্দু জঙ্গল সলিমপুর
চট্টগ্রামে ভোর থেকে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান
সন্ত্রাসী দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভোর থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সোমবার ভোর পাঁচটা থেকে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুরো জেলায় প্রায় এক হাজার সদস্য এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ড উপজেলার এ পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অস্ত্র মজুদ এবং অপরাধীদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, অভিযান পরিচালনার জন্য সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে, আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগে থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে কেউ অভিযান শুরুর খবর পেয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে না পারে।
অভিযানে অংশ নেয়া একটি সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে একাধিক পাহাড়ি ছড়া, ঘন ঝোপঝাড় এবং পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে। এসব স্থান অনেক সময় অপরাধীরা আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার করে। তাই সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পাহাড়ি পথ এতটাই সরু যে একসঙ্গে কয়েকজনের বেশি চলাচল করা সম্ভব হয় না। এজন্য ধাপে ধাপে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভোর হওয়ার আগেই পাহাড়ের আশপাশে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে তারা ধীরে ধীরে পাহাড়ের ভেতরের দিকে অগ্রসর হন এবং সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে পুরো জেলায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গল সলিমপুরের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় সেখানে অভিযান চালানো সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। পাহাড়ের ভেতরে অসংখ্য সরু পথ, গহিন ঝোপঝাড় এবং ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা বসতি থাকায় অপরাধীরা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে পারে। এজন্য গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–৭ এর চার সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব নিহত হন।
এ ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি বিশেষ নজরদারিতে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ওই মামলার কয়েকজন আসামি পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে আছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে পরিকল্পিত এ অভিযানে পাহাড়ের বিভিন্ন সন্দেহভাজন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযান শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
সবার দেশ/কেএম




























