চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি, কার্যক্রম ব্যাহত
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির কারণে বন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কনটেইনার ও বাল্ক কার্গোবাহী জাহাজের জেটিতে অবস্থানকাল বেড়ে যাওয়ায় পণ্য লোডিং-আনলোডিং ধীর গতিতে হচ্ছে, ফলে জাহাজ নির্ধারিত সময়ে জেটি ছাড়তে পারছে না। এর প্রভাব পড়ছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
শ্রমিক সংগঠনগুলো মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম চললেও আন্দোলনের কারণে অফিস ও কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এ এস এম মনিরুজ্জামান, পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক এবং চিফ পারসোনাল অফিসার মোহাম্মদ নাসিরের অপসারণের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়ায় এ কর্মকর্তারা জড়িত।
দীর্ঘদিন ধরে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও স্কপ। বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের চট্টগ্রাম শাখাও তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে। শ্রমিকরা বলছেন, ব্যক্তিস্বার্থে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা চলছে এবং কোনও আলোচনা ছাড়াই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
শ্রমিকদের কর্মবিরতির মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ১৬ জনকে ঢাকা আইসিডি ও নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালে বদলি করেছিলো। সোমবার নতুন আদেশে এক জনকে বাদ দিয়ে বাকি ১৫ জনের মধ্যে আট জনকে পায়রা বন্দর, বাকি সাত জনকে মংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। পরিবর্তিত কর্মস্থলে কেউ যোগদান করেননি। প্রতিবাদে চট্টগ্রাম স্কপ কালো পতাকা মিছিল করেছে।
অপরদিকে, কর্মবিরতির কারণে রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























