বিবিসির বিশ্লেষণ: আলোচনায় ভাঙন
মুখ লুকানোর পথও বন্ধ হলো ট্রাম্পের
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক জটিল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন বলে বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনও সমঝোতা না হওয়ায় হোয়াইট হাউসের প্রত্যাশিত দ্রুত সাফল্য ভেস্তে গেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার ব্যর্থতাকে ‘একসঙ্গে সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য, ওয়াশিংটনের মূল শর্ত—ইরানকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার স্পষ্ট অঙ্গীকার—তেহরান মানেনি। এ অচলাবস্থাই আলোচনাকে ভেঙে দিয়েছে।
বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করেছিলো সাম্প্রতিক যুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়া ইরান দ্রুত ছাড় দেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তেহরান এখনও নিজেকে দরকষাকষির শক্ত অবস্থানে মনে করছে। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ইরানের হাতে এখনও বড় ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা রয়েছে।
ডুসেট মনে করিয়ে দেন, এক দশক আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি হতে ১৮ মাস সময় লেগেছিলো; সেখানে এক বৈঠকেই সমাধান প্রত্যাশা ছিলো অবাস্তব। তার মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন দুই পথ—হয় সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করা, নয়তো আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে নতুন বাস্তবতা মেনে কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করা।
এ ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অভিঘাত ট্রাম্পের জন্য হলো—তিনি দ্রুত কূটনৈতিক বিজয়ের যে আখ্যান দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন, তা ভেঙে পড়েছে। এখন তিনি যদি সংঘাত বাড়ান, যুদ্ধের দায় তার কাঁধে পড়বে; আর যদি ছাড় দেন, তা রাজনৈতিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হতে পারে। ফলে, ‘মুখ লুকানোর পথও বন্ধ’—বিবিসির বিশ্লেষণের সারকথা এখানেই।
সবার দেশ/কেএম




























