Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৪, ২১ মার্চ ২০২৬

তেলের দামে আগুন, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আকাশচুম্বী তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত ইরানের তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুদ্ধ শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে ওয়াশিংটন প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল বাজারে আনার পথ খুলে দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা এই তেল যাতে ভারত, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো মিত্র দেশগুলো কিনতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ ছাড় দেয়া হয়েছে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা এ সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত (Strategic Petroleum Reserve) থেকে তেল ছেড়েছে, রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপেও বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১২ ডলারে পৌঁছেছে—যা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ পদক্ষেপকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরানের এ তেল ব্যবহার করেই উল্টো তেহরানের কৌশলের মোকাবিলা করা হবে।

তবে এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। একসময় বারাক ওবামা প্রশাসনের ইরান নীতির কড়া সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প, অথচ এখন তার প্রশাসনই পরোক্ষভাবে ইরানি তেল বিক্রির সুযোগ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারের মাত্র দেড় দিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম—যা দীর্ঘমেয়াদী সংকট মোকাবিলায় খুবই সীমিত। ইউরেশিয়া  গ্রুপ-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু সতর্ক করে বলেছেন, এ তেল দ্রুত শেষ হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের তেলের ওপর থেকে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পর তেলের দাম কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন। প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এ মূল্যবৃদ্ধিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি একে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট একটি ‘সাময়িক যন্ত্রণা’ হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

মার্কিন প্রতিনিধিদল মোবাইলের আলোয় দেখলেন জুলাই জাদুঘর
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে নামলে শত্রু ভাববে ইরান
অর্থ কমিটির বৈঠক অকার্যকর করার অভিযোগ হাসনাতের
হরমুজে ভাঙলো মার্কিন শক্তির দম্ভ
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে খরচ
প্রতিশোধ নয়, আত্মসম্মানের লড়াই ছিলো: কামিন্স
মেঘনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে জখম
ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
লংমার্চে বাধা এলে প্রতিহত করার ঘোষণা ১১ দলের
মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২
টেস্টে ইতিহাসের সেরা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা
বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল, পিজিআরের গার্ড অব অনার
‘দুঃখ পেয়েছেন’ চুপ্পু, আমন্ত্রণ পাননি বঙ্গভবনে
আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
দেশে হবে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী