জেন জি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে নেপালের
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি জেনারেশন জেড বা জেন জি তরুণদের মাত্র দুই দিনের বিক্ষোভের পর পদত্যাগ করেছেন। গত ৩৬ ঘণ্টার আন্দোলনে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ আহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, সরকারি দফতর ও পার্লামেন্ট ভবনে আগুন ধরিয়ে ব্যাপক লুটপাট চালায়। প্রথম দিনে ১৯ জনের মৃত্যুর পর বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন, এরপর চাপের মুখে অলি নিজেও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তিনি কাঠমান্ডু থেকে হেলিকপ্টারে চলে গেছেন। তার গন্তব্য অজানা। পার্লামেন্ট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সামরিক ব্যারাকে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
জেন জি আন্দোলন মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে শুরু হয়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম বন্ধের কারণে রাজধানী কাঠমান্ডু ও অন্যান্য শহরে শিক্ষার্থী ও তরুণরা রাস্তায় নামে। বিক্ষোভে দোকানপাট বন্ধ থাকে, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে। আন্দোলনকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালায়, ব্যারিকেড স্থাপন করে এবং পুলিশি দমনও সামাল দিতে বাধ্য হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌদেলও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল সাধারণ মানুষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্দোলনের সময় নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানাসহ বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন ধরানো হয় এবং পার্লামেন্ট ভবন ভাঙচুরের শিকার হয়। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরেও ভাঙচুর হয়।

সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকে মনে করা হচ্ছে। ৩৩ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিতে না পারলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার বক্তব্য তরুণদের মধ্যে গভীর প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করেছে।
জেন জি আন্দোলন নেপালের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শক্তি প্রমাণ করেছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে এ আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
সবার দেশে/কেএম




























