উত্তেজনায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
ইসরায়েলের পারমাণবিক গোপন নথি ইরানের হাতে
মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা-সংক্রান্ত কয়েক হাজার গোপন নথি, ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করেছে।
এ খবর সামনে আসতেই ইরান ও লেবাননের সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
‘গোপন অভিযান’-এ নথি সংগ্রহের দাবি
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের গোয়েন্দা বাহিনী একটি গোপন ও সফল অভিযান চালিয়ে এসব স্পর্শকাতর নথি সংগ্রহ করেছে।
শনিবার (৭ জুন) ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এবং হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ আল-মায়েদান চ্যানেল প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। পরে বার্তা সংস্থা এএফপি এবং টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি আরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানি মিডিয়ার দাবি, অভিযানে ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নকশা, প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, সামরিক ঘাঁটির তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ চিত্র এবং অপ্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার হয়েছে।
কোন নথি ফাঁস হয়েছে, ইঙ্গিত মাত্র
তবে এখন পর্যন্ত তেহরানঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো নির্দিষ্টভাবে কোন কোন প্রকল্পের নথি ফাঁস হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি।
শুধু ইঙ্গিত করা হয়েছে—ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইরান আরও দাবি করেছে, এসব নথি এখন বিশদ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে মূল্যায়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বোঝা গেছে, ইসরায়েল কী ধরনের পারমাণবিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কী রয়েছে।
ইসরায়েলের নীরবতা, অভ্যন্তরীণ তৎপরতা
এদিকে ইসরায়েলি সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে দেশটির নিরাপত্তা মহলে চরম তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি কতটা সত্য এবং কীভাবে এমন তথ্য ফাঁস হতে পারে, তা নিয়েও দেশটির গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা
ইতিমধ্যেই ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তপ্ত। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা, লেবানন ও সিরিয়া পরিস্থিতি ঘিরেও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বেড়েছে। এরই মধ্যে এমন পারমাণবিক নথি ফাঁসের দাবি নতুন করে উত্তেজনায় ঘি ঢেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যকেও নাড়া দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের কূটনৈতিক মহলে এ বিষয়ে উদ্বেগ ও সতর্কতা বাড়ছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল, তাসনিম নিউজ, আল-মায়েদান
সবার দেশ/কেএম




























