দুর্লভ ধাতু ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকারে ঐকমত্য
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বহুল আলোচিত বাণিজ্য দ্বন্দ্ব অবশেষে আপাতত বিরতি পাচ্ছে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, দু’দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার বাস্তবায়নের জন্য এখন শুধু প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তার নিজস্ব অনুমোদনের অপেক্ষা।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের ঘোষণা
শুক্রবার (৬ জুন) লন্ডনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দুই দিনের টানা আলোচনা শেষে ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন— চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু চীনের প্রেসিডেন্ট শি ও আমার অনুমোদন প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, চীন থেকে দুর্লভ খনিজ ও চুম্বক সরবরাহের নতুন রপ্তানি ব্যবস্থা চালু হবে এবং চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবার উন্মুক্ত হবে।
কী নিয়ে চুক্তি?
চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ছিলো তিনটি:
- দুর্লভ খনিজ ও চুম্বক পদার্থের সরবরাহ: আধুনিক প্রযুক্তির (বিশেষ করে চিপস, ব্যাটারি, ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত) জন্য অপরিহার্য এ খনিজ রপ্তানির ওপর চীন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিলো।
- চীনা শিক্ষার্থীদের মার্কিন প্রবেশাধিকার: ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হয়, বিশেষ করে যাদের সঙ্গে সামরিক বা প্রযুক্তিগত গবেষণার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ ছিলো। এখন আবার সে প্রবেশাধিকারে শিথিলতা আসছে।
- উভয় দেশের শুল্ক নীতি পর্যালোচনা: এপ্রিলে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের হার পৌঁছায় সর্বোচ্চ ১৪৫ শতাংশে। মে মাসে দুই দেশ সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছে হার কমিয়ে আনে। নতুন চুক্তিতে সে অবস্থান আরও স্থায়ী করা হতে পারে।
পেছনের ইতিহাস: দ্বন্দ্ব, ভাঙন ও পুনঃসংলাপ
যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর একাধিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা অভিযোগে শুল্কারোপ করেছিলো যার পাল্টা জবাবে চীনও মার্কিন পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে। মে মাসে সুইজারল্যান্ডে আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক সমঝোতা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে।
বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে যে চীন দুর্লভ ধাতুর রফতানি খোলাসা করেনি, অন্যদিকে বেইজিং জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বাতিল, হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করা এবং সফটওয়্যার রফতানি বন্ধের মতো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: নির্বাচনী কৌশল?
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ চুক্তি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারে থাকা ট্রাম্প এ চুক্তিকে নিজের কূটনৈতিক দক্ষতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
চীনের দুর্লভ খনিজ ও মার্কিন প্রযুক্তি বাজার—এ দুই চাবিকাঠিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা হয়তো এখন কিছুটা প্রশমিত হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্বাসহীনতার পটভূমিতে এ চুক্তির বাস্তবায়ন কতটা টেকসই হয়, সেটাই দেখার বিষয়। একদিকে বাজার স্থিতি, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অনাস্থা—যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক এক জটিল ভারসাম্যের গল্প বলছে।
সূত্র : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ইউএনবি
সবার দেশ/কেএম




























