Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৪০, ১২ জুলাই ২০২৫

শান্তির পথে পিকেকে

চার দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান জাসানায়

চার দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান জাসানায়
ছবি: সংগৃহীত

চার দশকের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এক নতুন যুগের সূচনা করলো। শুক্রবার (১১ জুলাই) ইরাকের সুলাইমানিয়ার জাসানা গুহায় আয়োজিত এক প্রতীকী অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রায় ৩০ জন যোদ্ধা তাদের একে-৪৭ রাইফেলসহ নানা অস্ত্র আগুনে নিক্ষেপ করে আত্মসমর্পণ করেন। 

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘ শত্রুতার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিরস্ত্রীকরণের দৃশ্য দেখা গেল।

অস্ত্র নয়, এখন রাজনীতির পথে

‘শান্তি ও গণতান্ত্রিক সমাজ গ্রুপ’ পরিচয়ে যোদ্ধারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায়, আমাদের আদর্শ ও গণতান্ত্রিক সংহতির ভিত্তিতে অস্ত্র ধ্বংস করছি।’ গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমেই নিজেদের অধিকার আদায়ের পথে তারা এগোবেন বলে জানান।

এ পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছেন তুরস্কে বন্দী পিকেকে নেতা আব্দুল্লাহ ওজালান। মে মাসে তিনি সংগঠনকে নিরস্ত্রীকরণ ও বিলুপ্তির ঘোষণা দিতে বলেন। বুধবার এক ভিডিও বার্তায় ওজালান বলেন, ‘আমি অস্ত্র নয়, রাজনীতি ও সামাজিক শান্তিতে বিশ্বাস করি।’ তিনি সকলকে এ পথে চলার আহ্বান জানান।

জাসানা: প্রতিরোধ থেকে শান্তির প্রতীক

অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেয়া হয় ঐতিহাসিক জাসানা গুহাকে। ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে বাথ পার্টির দমননীতির সময় কুর্দি পেশমার্গাদের জন্য এটি ছিলো আশ্রয়স্থল। এবার সে গুহা হল এক নতুন ইতিহাসের জন্মস্থল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুর্দি, ইরাকি ও তুর্কি কর্মকর্তা এবং কুর্দি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। অর্ধেক যোদ্ধা ছিলেন নারী, যারা ধারাবাহিকভাবে অস্ত্রগুলো বিশাল পাত্রে জমা দিয়ে আগুনে নিক্ষেপ করেন। তুর্কি ভাষায় সংগঠনের নিরস্ত্রীকরণের ঘোষণা পাঠ করেন পিকেকে-র শীর্ষ নেত্রী বেসে হোজাত।

প্রতিক্রিয়া: সতর্ক আশাবাদ

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্কই ভ্রাতৃত্বের বিশ্বাসের জয়। বিচারমন্ত্রী ইয়িলমাজ তুনচ বলেন, পিকেকে শুধু উন্নয়নে নয়, আমাদের জাতীয় ঐক্যেও বাধা দিয়েছে।

তবে ‘সেটা’ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশ্লেষক নেবি মিস সতর্ক করে বলেন, অস্ত্র সমর্পণের ভিডিও যেন সংগঠনের প্রচারণায় না পরিণত হয়। তিনি বাকি অস্ত্রগুলোর হিসাব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে প্রো-কুর্দি ডিইএম পার্টি এ ঘটনাকে ‘কুর্দি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং তুরস্ক-মধ্যপ্রাচ্যের জন্য শান্তির নতুন অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন

বিশ্লেষক শাহো কারাদাগি বলেন, জাসানা গুহা আজ কেবল ইতিহাস নয়, এটি শান্তির ভবিষ্যতের প্রতীক। এ পদক্ষেপে শুধু পিকেকে নয়, ইরাক, কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্মিলিত সমন্বয় লক্ষ করা গেছে।

যদিও সমর্পণের স্কেল এখনো সীমিত, তথাপি এটি শুধু প্রতীকী নয় বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন