ভূমিকম্পে তছনছ আফগানিস্তান, নিহত আট শতাধিক
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্পে মুহূর্তেই ধসে পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি। স্থানীয় সময় রোববার রাত (৩১ আগষ্ট) ১১টা ৪৭ মিনিটে জালালাবাদ শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত হয়েছে। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিলো মাত্র ৮ কিলোমিটার, যা ধ্বংসযজ্ঞ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। তবে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে, কুনার প্রদেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।
ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ
স্থানীয় সূত্র বলছে, ভূমিকম্পের ১২ ঘণ্টা পরও অনেকে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বহু গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কুনার ও নাঙ্গারহার প্রদেশে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ চলছে মূলত আকাশপথে। ভূমিধস ও বন্যায় অনেক এলাকায় সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তালেবান সরকার হেলিকপ্টার দিয়ে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। নাঙ্গারহারের বিমানবন্দরে হেলিকপ্টার নামিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনার দৃশ্য চোখে পড়েছে।
একজন তালেবান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি গ্রামেই ২১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও সতর্ক করেছেন, আফটারশকের কারণে ঝুঁকি রয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, তারা রাতভর একের পর এক আফটারশক অনুভব করেছেন। কুনারের বাসিন্দা পোলাদ নূরি বলেন, আমি অন্তত ১৩ বার আফটারশক গণনা করেছি। শত শত মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় রাত কাটিয়েছে। আমার জীবনে এত ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প কখনও দেখিনি।
শোক ও আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস
ভয়াবহ এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানে জাতিসংঘের টিম প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কাজ করছে। মোদি এক্সে পোস্টে আফগানদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, ভারত যেকোনও মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
কেনো আফগানিস্তানে এত ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ কারণ দেশটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে অবস্থিত। ২০২২ সালের জুনে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে অন্তত এক হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। ভূমিকম্পের গভীরতা অগভীর হওয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ আরও বেড়ে যায়। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে—গভীরতা মাত্র ৮ কিলোমিটার হওয়ায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আফগানিস্তানে ভবনগুলো সাধারণত কাঠ, কাঁচা ইট বা দুর্বল কংক্রিট দিয়ে তৈরি হয়, যা ভূমিকম্পে সহজেই ভেঙে পড়ে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
সবার দেশ/কেএম




























