রেকর্ডের পর ধস: একদিনেই সোনার দামে ৫ শতাংশ পতন
রেকর্ড উচ্চতা ছোঁয়ার মাত্র একদিন পরই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এ ধাতুর দাম এক লাফে ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়— যা করোনার পর সবচেয়ে বড় একদিনের পতন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিন লেনদেন শেষে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে আসে ৪ হাজার ১৩০ দশমিক ৪০ ডলারে। এর আগের দিন, সোমবার (২০ অক্টোবর), স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ৫২ ডলার স্পর্শ করেছিলো। অর্থাৎ, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর কমেছে প্রায় ২৫১ ডলার।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা দামের উর্ধ্বগতির পর বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে লাভ তুলে নিতে শুরু করায় এ পতন ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রে বন্ডের ফলন বৃদ্ধিও স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
লন্ডন ও নিউইয়র্কের বুলিয়ন মার্কেটের এক বিশ্লেষক বলেন, দাম যখন ইতিহাস ছোঁয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ‘প্রফিট বুকিং’ শুরু হয়। বিনিয়োগকারীরা কিছুটা মুনাফা তুলে নিতে চায়, আর সেটাই এখন ঘটছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন দর নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা— যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে টানা মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারের দামে অস্থিরতার কারণে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে মঙ্গলবারের বড় পতন অব্যাহত থাকলে, বাংলাদেশের বাজারেও শিগগিরই মূল্য হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সবার দেশ/কেএম




























