ইরানে বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন সহিংসতা
তেহরানে এক রাতেই দুই শতাধিক নিহতের দাবি
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দেশটির রাজধানী তেহরানে এক রাতেই দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে আন্দোলন আরও সহিংস হয়ে উঠছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানে বিক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়।
সাময়িকীটির দাবি অনুযায়ী, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে ওই রাতেই অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই তাজা গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের বড় একটি অংশ তরুণ বয়সী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুক্রবার সকালে হাসপাতালগুলো থেকে এসব লাশ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। ওই চিকিৎসকের দাবি, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন।
টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে, হতাহতের এ সংখ্যাটি তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে তথ্যগুলো যদি সঠিক হয়, তাহলে এটি ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দমনে অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ইরানের এ পদক্ষেপকে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগের দিন সতর্ক করে বলেছিলেন, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে যদি ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তবে ইরান সরকারকে ‘চড়া মূল্য দিতে হবে’।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী এ আন্দোলনের সূচনা হয়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশটির অন্তত ৩১টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
সবার দেশ/কেএম




























