বিশ্লেষকের চোখে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত
ট্রাম্পের নীতি এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে, ফাঁদে ওয়াশিংটন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে ইসরায়েলের স্বার্থের নিয়ন্ত্রণাধীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্লেষক জামাল কাঞ্জ। মিডল ইস্ট মনিটরের সাম্প্রতিক নিবন্ধে তিনি দাবি করেছেন, ইরাক যুদ্ধের মতো, বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতও মূলত ইসরায়েলের পরিকল্পনার অংশ, যেখানে ওয়াশিংটন কেবল সে এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, দুই দশক আগে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাতে শুরু হওয়া যুদ্ধও ছিলো ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য সাজানো। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়ার পরিবর্তে, যুক্তরাষ্ট্র এখন একই কৌশলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। লেখক এ যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল ‘হাতিয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
লেখক উল্লেখ করেছেন, সংঘাতের সময়সূচী এবং সিদ্ধান্তগুলোও মার্কিন সরকারের নিজস্ব ছিলো না। যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়া নাগরিকদের সরানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের নিজ দায়িত্বে এলাকা ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ইরানকে ধৈর্যশীল ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত দেশ হিসেবে উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়েছে, দেশের দীর্ঘস্থায়ী প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ক্ষমতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় আঘাত আনতে সক্ষম। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট গঠনেও যে সাফল্য মেলেনি, তা বিবেচনায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
লেখকের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এ অস্থিরতা ও মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততা ইসরায়েলের জন্য ‘পরজীবী সম্পর্ক’ হিসেবে কাজ করছে। ইসরায়েল কেবল ইরানকে দুর্বল করতে চাইছে না, বরং আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের স্থায়ী শত্রুতা ও বিভাজন সৃষ্টি করে অঞ্চলটিকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
শেষে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন করদাতাদের শত কোটি ডলার খরচ করে অন্য দেশের স্বার্থে যুদ্ধ করার এ নীতি তীব্র সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। মূল সারসংক্ষেপ—এখন সংঘাতের মূল নিয়ন্ত্রণ তেল আবিবে, আর তার চরম মূল্য পরিশোধ করছে ওয়াশিংটন।
সবার দেশ/কেএম




























