ইরানে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেন রেজা পাহলভি
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র ও নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের কাছে “জরুরি ও তাৎক্ষণিক” সহায়তা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানান।
রেজা পাহলভি তার পোস্টে লেখেন, বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট ও ল্যান্ডলাইন যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা সরাসরি গুলির মুখে পড়ছেন। তিনি বলেন, মি. প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার দৃষ্টি, সমর্থন ও পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। গত রাতে লাখ লাখ সাহসী ইরানি মানুষ রাস্তায় নেমে জীবন্ত গুলির মুখোমুখি হয়েছেন। আজ তারা শুধু গুলির মুখে নয়, বরং সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও রয়েছেন। কোনো ইন্টারনেট নেই, কোনো ল্যান্ডলাইন নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি জনগণের হাতে তার শাসনব্যবস্থার পতনের আশঙ্কায় আরও কঠোর দমন-পীড়নের পথে এগোচ্ছেন। রেজা পাহলভির ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনেয়ি জনগণের অভ্যুত্থান এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের ভয়ে রাস্তায় থাকা মানুষদের বিরুদ্ধে নির্মম দমন-পীড়নের হুমকি দিয়েছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে তিনি তরুণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে চান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাসিত এ যুবরাজ বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সময়-সংবেদনশীল এবং খুব শিগগিরই আবার মানুষ রাস্তায় নামবে। তিনি জানান, জনগণকে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এবং সংখ্যার জোরে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরাস্ত করতে তিনি রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, গত রাতে জনগণ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে এবং ট্রাম্পের আগের সতর্কবার্তা দমনকারী বাহিনীকে কিছুটা হলেও পিছু হটতে বাধ্য করেছে।
রেজা পাহলভি আরও বলেন, সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষ আবার রাস্তায় নামবে। এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি শান্তিপ্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আমি জানি আপনি এক কথার মানুষ। অনুগ্রহ করে ইরানের জনগণকে সহায়তা করতে হস্তক্ষেপে প্রস্তুত থাকুন।
উল্লেখ্য, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কঠোর দমন-পীড়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবার দেশ/এফও




























