চেয়েছিলেন আর্থিক সহায়তাও
‘আমাকে বিয়ে করো’—এপস্টেইনকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী
প্রয়াত বিতর্কিত অর্থলগ্নি কারবারি ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্প্রতি প্রকাশিত ই-মেইল নথি ব্রিটিশ রাজপরিবারকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এসব ই-মেইলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন—যিনি ‘ফার্গি’ নামে পরিচিত—এবং তাদের দুই কন্যা প্রিন্সেস বিয়াট্রিস ও ইউজেনির নাম একাধিকবার উঠে এসেছে।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, এপস্টেইনের সঙ্গে সারা ফার্গুসনের সম্পর্ক ছিলো ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত। ২০০৯ সালের একটি ই-মেইলে সারা এপস্টেইনকে লিখেছিলেন, মেয়েদের সামনে তার প্রশংসায় তিনি আবেগাপ্লুত। ওই বার্তায় তিনি এপস্টেইনকে এমন একজন ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন, যার অভাব তিনি সারাজীবন অনুভব করেছেন।
পরের বছর, ২০১০ সালের আরেকটি ই-মেইলে সারা ফার্গুসন আরও একধাপ এগিয়ে রসিকতার সুরে লেখেন, এপস্টেইন একজন কিংবদন্তি এবং তার দয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। সে ই-মেইলের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, ‘জাস্ট ম্যারি মি’—অর্থাৎ ‘আমাকে বিয়ে করে ফেলো’।
ই-মেইলগুলোতে সারা ফার্গুসনের আর্থিক সংকটের কথাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ২০০৯ সালে একটি ব্যবসায়িক ব্যর্থতার পর তিনি এপস্টেইনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার পাউন্ড ঋণ চান। ই-মেইলে তিনি উল্লেখ করেন, বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তার বাড়িওয়ালা সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হুমকি দিচ্ছেন। অন্যদিকে এপস্টেইন নিজেও দাবি করেছিলেন, তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে সারা ফার্গুসনকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।
নথিগুলোতে দেখা যায়, ব্রিটিশ অভিজাত সমাজের কেন্দ্রস্থলে এপস্টেইনের অবাধ যাতায়াত ছিলো এবং এতে সারা ফার্গুসনের ভূমিকা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ সালে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ৫০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এপস্টেইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয় সারা ফার্গুসনের পক্ষ থেকেই। এমনকি বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর ক্যাসেলে চা-চক্র আয়োজনের আশ্বাসও তিনি দিয়েছিলেন বলে ই-মেইলে উল্লেখ রয়েছে।
এ নথিতে প্রিন্সেস ইউজেনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করা কিছু অশালীন ও কুরুচিকর মন্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে, যা রাজপরিবারের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। একটি ই-মেইলে ইউজেনির ব্যক্তিগত ভ্রমণ নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এসব ই-মেইল সরাসরি সারা ফার্গুসন নিজে লিখেছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মজার বিষয় হলো, সারা ফার্গুসন যখন এপস্টেইনকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছিলেন, তখন আড়ালে তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করতেও ছাড়েননি এপস্টেইন। ২০১১ সালে প্রিন্সেস বিয়াট্রিসের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানের একটি ছবি দেখে তিনি ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন, ছবিটিতে ফার্গিকে মোটেও ভালো দেখাচ্ছে না।
২০০৮ সালে কিশোরী পাচারের অভিযোগে এপস্টেইন দণ্ডিত হওয়ার পরও এ যোগাযোগ বন্ধ হয়নি বলে নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও সারা ফার্গুসনের প্রতিনিধিরা বরাবরের মতোই কোনও ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবুও বিশ্লেষকদের মতে, এ ই-মেইল ফাঁসের ঘটনায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের ‘ইয়র্ক’ শাখার ভাবমূর্তি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে তার রাজকীয় বাসভবন রয়্যাল লজ ছাড়তে হতে পারে—এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। একাধিক দাতব্য সংস্থা ইতোমধ্যে সারা ফার্গুসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। পাশাপাশি প্রিন্সেস বিয়াট্রিস ও ইউজেনির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এপস্টেইনের নথিতে কারও নাম থাকা মানেই সরাসরি অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। কিন্তু নৈতিকতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে এ নথি বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বড় চাপের মুখে ফেলেছে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই।
সবার দেশ/কেএম




























