দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই দাম ১০০ ডলার ছুঁতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ হতো। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রফতানির বড় অংশই এ সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের নিট ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
জ্বালানি ও রিফাইনিং বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ICIS–এর ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলার পর তেলের দাম বাড়া স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে মূল উদ্বেগের জায়গা হলো হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া। তার মতে, সপ্তাহ শেষে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে মূল্য আরও বাড়বে।
অন্যদিকে জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি জানিয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সংস্থাটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়াই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, তেলের দাম হঠাৎ ২০ ডলার বেড়ে গেলে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ফলে নতুন করে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























