প্রবন্ধ
জাবালে উহুদ
(শেষ পর্ব)
কোরেশ যোদ্ধারা সামনে এসে হযরত (স.)-কে হত্যার কয়েক দফা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ ভয়ংকর অবস্থায় আবি আক্কাসের পুত্র ওবার নিক্ষিপ্ত একটি পাথর হযরতের মুখমন্ডলে লেগে তার একটি (কারো মতে দুটি) দাঁত পতনসহ মুখমন্ডল রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয়। হযরত (স.)-কে দূর থেকে যারা পাথর নিক্ষেপ করছিল হযরত আলীসহ উল্লেখিত বীরগণ হযরত (স.)-এর নিকট থেকে কিছুদূর এগিয়ে তাদের সংহার করছিলেন। হযরত (স.) দাঁড়িয়েছিলেন একটি গিরিগহŸরের পাড়ে। অকশার পুত্র আবদুল্লাহর নিক্ষিপ্ত এক খন্ড পাথর হযরত (স.)-এর বাহুতে এসে লাগায় তিনি গিরিগহŸরে নিপতিত হলেন। তা দেখে হযরত নিহত হয়েছে মনে করে আবদুল্লাহ প্রচার করে যে, আমি মুহাম্মদকে হত্যা করেছি। বিশেষ করে মুসলিম বাহিনীর পতাকাবাহী মুসআব শহীদ হলেন। তাঁর আকৃতি হযরত (স.)-এর মতো ছিল বলে শত্রুপক্ষ বিশ্বাস করলো যে, স্বয়ং মুহাম্মদ (স.) নিহত হয়েছেন। তা শুনে ভেঙে পড়া মুসলিম বাহিনীকে আর একত্রিত করা গেল না। এর পরেও যেসব মুসলিম যোদ্ধা জানবাজি রেখে ময়দানে অবস্থান করে যুদ্ধরত ছিল তারা এতক্ষণ হযরত (স.)-কে গিরিগহ্বরের পাড়ে দন্ডাায়মান দেখেছিলেন। হঠাৎ হযরত (স.)-কে অদৃশ্য হতে দেখে শেষ যোদ্ধাগণ শেষ মনোবলটুকুও হারিয়ে ফেলে। হযরতের নিধন বার্তা নিয়ে অনেক পরাজিত সৈন্য মদিনা ফিরে যেতে শুরু করে। কোরেশগণ মুহাম্মদকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে জীবিত কিংবা মৃত না পেয়ে ধরেই নিয়েছিল তিনি আর নেই। যুদ্ধ শেষ, আবু সুফিয়ান উহুদের পাহাড় চূড়ায় বিজয় পতাকা উড্ডয়ন করে।
হযরত (স.) অজ্ঞান হয়ে যে গহ্বরে পড়ে ছিলেন সে গহ্বরে ইতোপূর্বে আরো কয়েকটি মৃতদেহ পড়েছিল। সে কারণে কোরেশ নেতানেত্রীগণ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও (জীবিত কিংবা মৃত) অবস্থায় তাকে পাননি। যুদ্ধে জয়- পরাজয় নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার অনেক পর, মালেকের পুত্র কাব তাঁকে সে গহ্বরের ভেতর চিনতে পারলেন। হযরত (স.)-এর উজ্জ্বল নয়ন যুগল দেখে বুঝতে পারলেন তিনি জীবিত আছেন। জীবিত বুঝতে পারার সাথে সাথে উচ্চ স্বরে বলে উঠলেন-
- হে বিশ্বাসী ভ্রাতৃবৃন্দ, আমি তোমাদের সংবাদ দিচ্ছি- হযরত জীবিত আছেন।
তালহা তাকে গহ্বর থেকে উঠিয়ে আনলেন। হযরত (স.)-কে জীবিত দেখতে পেয়ে মুসলমানদের আর আনন্দের সীমা-পরিসীমা রইলো না। সবাই দেখলেন যে, হযরত (স.)-এর সর্বাঙ্গে ৭০টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর মাথায় যে লৌহমুকুট ছিল, উহার তারসমূহ তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। লোহার তার নবী (স.)-এর মাথায় এমনভাবে ঢুকে গিয়েছিল যে তা বের করতে আবু ওবায়দার একটি দাঁত ভেঙে গিয়েছিল।
যুদ্ধে পরাস্ত হয়েও নবীজী বেঁচে থাকার সংবাদে মদিনায় বিজয়ের বাতাস বইতে শুরু করে। যুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জনৈক ওমর ও ওমরের এক পুত্র মৃত্যুমুখে পতিত হন। ওমরের স্ত্রীর নাম হিন্দা (কোরেশ নেতা আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নামও হিন্দা)। ওমরের স্ত্রী হিন্দা তার স্বামী, পুত্র এবং আপন ভ্রাতা এ তিনজনের লাশ উটের উপর করে মদিনা ফিরছিলেন। তখন হযরত আয়শা (রা.) কয়েকজন সখীর সাথে সমর আভিমুখে রওয়ানা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে হিন্দার সাথে সাক্ষাত হলে জানতে চান-
- বলো হিন্দা, রণস্থলের খবর কি?
হিন্দা উত্তর করলেন-
- প্রেরিত মহাপুরুষ যখন কুশলে আছেন, তখন অন্যান্য যেসব বিপদ সংঘটিত হয়েছে সেসব কিছুই নয়।
পুনঃ প্রশ্ন করেন আয়েশা (রা.)-
- কার মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছ?
আমার স্বামী ওমর, ভ্রাতা আবদুল্লাহ এবং পুত্রের মৃতদেহ।
উহুদের প্রান্তর থেকে মদিনার পথে কিছুদূর যাওয়ার পর অলৌকিক কারণে লাশবাহী উষ্ট্রটি মুখ ঘুরিয়ে উহুদের মাঠের দিকে হাঁটতে শুরু করে। হিন্দা উষ্ট্রটিকে প্রাণপণ চেষ্টা করেও আর মদিনার দিকে ফিরাতে পারেনি। উট মদিনা না গিয়ে রণক্ষেত্র অভিমুখে গমন করলো। হিন্দার নিকট থেকে এ খবর শুনে হযরত (স.) বলেন-
উট মদিনা শরীফ যাবে কিভাবে! সে যে এদিকেই আসতে আদিষ্ট হয়েছে। যুদ্ধ যাত্রাকালে ওমর কি কোনো কথা বলেছিল?
হিন্দা উত্তর দিলেন-
-যুদ্ধ যাত্রাকালে আমার স্বামী বলেছিলেন, ‘হে খোদা, আজ যেন কেউ আমাকে আমার পরিবারের নিকট দেখতে না পায়’।
তখন হযরত (স.) বললেন-
‘খোদাতায়ালা তাঁর ইচ্ছা পূরণ করেছেন, সে জন্যই তোমার উষ্ট্র ওমরের লাশসহ মদিনা অভিমুখে যেতে চায় না। তুমি তোমার স্বামীসহ আত্মীয়গণের মৃতদেহ এই রণক্ষেত্রেই সমাহিত করো।’
আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা ছিল একজন উগ্রপন্থী মহিলা। বদরের যুদ্ধে হযরত হামজার হাতেই হিন্দার বাবা ওতবা নিহত হয়েছিল। হিন্দার চাচাত ভাই জোবায়ের। জোবায়েরের ক্রীতদাসের নাম ওহাসি। ওতবা হামজার হাতে নিহত হওয়ার পর তৎকন্যা হিন্দা ও ভাইপো প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় হিসেবে ক্রীতদাস ওহাসিকে বলেছিল-
তুমি যদি হামজাকে হত্যা করতে পারো তবে তোমাকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
মুক্তির প্রলোভন ছাড়া একই কাজের জন্য হিন্দাও তাকে প্রচুর অর্থ পুরস্কার দিতে অঙ্গীকার করেছিল। উভয় প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে ওহাসি যুদ্ধের ময়দানে সাধারণ সৈনিকদের সাথে না থেকে সংগোপনে হযরত হামজার গতিবিধি লক্ষ্য করছিল। কিছু মুসলিম যোদ্ধা নবী করিম (স.)-এর আদেশ অমান্য করে পার্থিব লোভ-লালসায় লিপ্ত হওয়ার ফলে যুদ্ধের প্রতিরক্ষা ব্যুহ ছিন্নভিন্ন হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বীরযোদ্ধাগণ হতবিহবল হয়ে পড়া কালে আবু ওজ্জার পুত্র সেবা সহসা অগ্রসর হয়ে অতর্কিতভাবে হযরত হামজাকে আক্রমণ করে। হযরত হামজা সেবার আঘাত প্রতিহত করতে না করতেই গোপন স্থান থেকে ছুটে আসা ওহাসির বর্শার আঘাতে হযরত হামজা শাহাদাৎ বরণ করেন। ওয়াসি পুরস্কারের জন্য হযরত হামজার লাশসহ হিন্দার নিকট হাজির হলে হিন্দা হামজার লাশ টুকরো টুকরো করে কেটে ভক্ষণ করতে চেষ্টা করে। মৃতদেহ থেকে নাক, কান প্রভৃতি কেটে পৈশাচিক উল্লাসসহ হযরত হামজার কলিজা চর্বণ করে পিতৃহত্যার প্রতিশোধের শোকানল থেকে মুক্তি লাভ করে।
যে আমির হামজা বিশ্বনবী (স.)-এর শিষ্য হয়ে শিশু মুহম্মদকে শ্বাপদ- শঙ্কুল সরণী, শনৈশ্চর শত্তুর, শনির দৃষ্টি ও শবাহারী শকুনির ছোবল থেকে- শরভের মতো নিজের শরীরের ছায়ায় মায়ায় রেখে শঙ্কাযুক্ত ঘোর অমানিশা পার করে শিশিরসিক্ত সোনালি সকালে পৌঁছে দিয়েছেন সে আমির হামজা (রা.)-এর খন্ডিত ও বিকৃত দেহ শত্রু সেনাপতির বর্শার অগ্রভাগে দর্শন করে শোকে ম্রিয়মান হযরত (স.) বলেছিলেন-
‘যার অসাধারণ বাহুবলে কোরেশ বংশের পরাক্রমশালী বীর পুরুষগণ যমালয়ে গমন করেছে, যার নাম শ্রবণ করা মাত্র শত্রুর হৃৎকম্পন শুরু হয়ে যায়, সেই মহাবীরের আজ একি অবস্থা দেখছি! হে সর্বশক্তিমান করুণাময় সৃষ্টিকর্তা, তুমি এই বিশ্বাসী মহাবীরকে তোমার স্বর্গ রাজ্যে স্থান দান করো।’
এরূপ কথিত আছে যে, ঠিক এ সময় খোদাতায়ালা নবী করিম (স.)-কে সান্তনা দেওয়ার জন্য সবার অলক্ষ্যে জিবরাঈলকে প্রেরণ করেছিলেন। জিবরাঈল (আ.) বললেন-
‘হামজা স্বর্গবাসী হয়েছেন, তাঁর নশ্বর দেহের দুর্দশা দর্শন করে শোক করবেন না। আল্লাহ পাকের নিকট তিনি “ধর্ম প্রচারকের সিংহ” এই মহা গৌরবকর নামে অভিহিত হয়েছেন।’
নবী করিম (স.)-এর সরাসরি সুপারিশে স্বর্গীয় শার্দুল হযরত আমীর হামজাও চিরনিদ্রায় শুয়ে রয়েছেন এই উহুদের মাঠে।
এ মাঠে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের সম্পর্কে নবী (স.) বলেছেন-
- উহুদ প্রান্তরে যখন তোমাদের ভাইয়েরা শহীদ হন তখন আল্লাহ তাঁদের রূহসমূহকে সবুজ পাখির মধ্যে রাখেন। তাঁরা জান্নাতের নহরে পানি পান করে। জান্নাতের ফল ভক্ষণ করে, আরশের ছায়াতলে স্বর্ণের ঝাড়বাতিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। তারা যখন এত সুন্দর পানাহার নিদ্রাসন পায় তখন তাঁরা বলে, ‘আমরা জান্নাতে জীবিত আছি, পানাহার পেশ করা হচ্ছে, আমাদের এ সংবাদ দুনিয়ার জীবিত ভাইদের নিকট কে পৌঁছে দিবে? যাতে তারা জিহাদের ব্যাপারে উদাসীন না হয়।’ শহীদদের এ প্রশ্নে আল্লাহ বলেন ‘আমি তোমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে পৌঁছে দেবো। অতঃপর আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- ‘যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তাদের মৃত ভেবো না। (সূরা আল ইমরান : ১৬৯)।
সামনে লোহার গ্রিলের বেড়ার কাছে গেলেই হযরত হামজা (রা.)-এর সমাধি দেখা যাবে। তাঁকেসহ উহুদের প্রান্তরে শাহাদাৎ বরণ করে সমাহিত রয়েছেন আরো সত্তরজন শহীদ।
সহীহ বুখারীতে হাদীস বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (স.) আট বছর পর উহুদের শহীদদের জন্য এমন আবেগাপলুত হয়ে দোয়া করেছেন যেমন, জীবিত ও মৃতদের মধ্যে বিদায় নেওয়া হয়। তিনি মিমবরে উঠে বলেন, ‘আমি তোমাদের প্রথমে যাচ্ছি, আমি তোমাদের জন্য সাক্ষ্য দেবো, হাউজে কাউসারের পাশে তোমাদের সাথে আমার দেখা হবে।’ (বুখারী : ৪০৪২)
তাই এখানে সমাধি জিয়ারতের দোয়া পাঠসহ শহীদের পবিত্র আত্মার উদ্দেশ্যে দরুদ পাঠ করতে হয়।
গাড়ি থেকে নেমে কি কি দোয়া পাঠ করতে হবে গাইড সামসু ভাইয়ের মুখে শুনে পাঠ করতে করতে সামনে মানুষের জট ফাঁক করে গ্রিলের বেড়া ধরে দাঁড়াই। সামনে সমতল ভূমিতে বিস্তীর্ণ বালুকাময় স্থান ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না। সমাধি কিংবা সমাধিফলকের কোনো চিহ্ন দেখতে না পেয়ে গাইড সামসু ভাইয়ের কাছে জানতে চাই-
- এখানে শহীদদের কবর কোথায়?
-এক সময় ছিল।
এখন নেই কেনো? আমরা ইতিহাসের পাতায় মহাবীর হামজা (রা.)- এর শহীদ হওয়ার স্থানসহ সমাধিস্থল দেখেছি। যেখানে তিনি শহীদ হয়েছেন তার কয়েক গজ উত্তরেই মহাবীর হামজা (রা.)-এর শেষ সমাধিফলক ছিল। তার সমাধির উত্তর দিকেই ছিল অপরাপর শহীদদের সমাধি। এমনকি ইতিহাসে নবী করীম (স.)-এর দত্ত মোবারকের সমাধিও চিহ্নিত ছিল। এখন দেখছি শুধু পোড়াবালি আর পোড়াবালি। এখানকার সমাধিগুলো নিশ্চিহ্ন করলো কেন? আরব দেশের বাইরে সারা মুসলিম জাহান জুড়ে অনেক ওলী-এ কামেল এমনকি হোমড়াচোমড়াদের সমাধিতেও প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলমান জিয়ারত করে থাকে, তাদের শিরক আল্লাহ ক্ষমা করতে পারলে গ্রিলের বাইরে থেকে ইসলামের মহাপুরুষদের সমাধির দিকে তাকিয়ে শহীদদের স্মৃতিচারণ করলে, কিংবা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে একটা ফুল ছুড়ে দিলে স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতিই ফুল ছুড়ে দেয়া হয়। সন্তান বাৎসল্য মায়ের রুগ্ন সন্তানকে কেউ সেবা দিলে, কৃতীবান সন্তানকে সম্মান দিলে কিংবা ফুটফুটে সুন্দর শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর দিলে, মায়ের মাতৃত্বে ঘাটতি পড়ার কথা নয়। অনুরূপভাবে কেউ যদি স্রষ্টার মহান সৃষ্টিকর্মকে ভালবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে তাতে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্বে ঘাটতি পড়বে কেন? আদিমানব আদমকে সৃষ্টি করার সময় আল্লাহ্ নির্মাণসামগ্রী ছুঁয়েও দেখেননি-নির্দেশ করেছিলেন মাত্র। আল্লাহ্র নির্দেশে মাটি তুলে আনা থেকে শুরু করে শেষ পৌঁছটিও দিয়েছিল ফিরিস্তাকুল। তারপরেও বলা হয়, 'আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন আদম কে।' আদমকে সৃষ্টি করার জন্য ফিরিস্তাকুল বিচ্ছিন্নভাবে আদমের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যে যাই সৃজণ করুক না কেন, ধরে নিতে হবে সব কিছুই আল্লাহ্র সৃষ্টি। কারণ,কৃতির কৃতিত্ব হাত বা হাতিয়ারের নয়-যিনি হাত বা হাতিযার পরিচালনা করেন, তার। কেউ যদি ভাষার মারপ্যাচসহ বিচার-বিবেচনা ও ধর্মের সূক্ষাতিসূ² হিসেব কিতেব না করে বলে ফেলে, ‘ওই জমিগুলো আমার, জমির ধানগুলোও আমার, আমি ঠিকমতো পরিচর্যা করেছি বলেই সুন্দর ফলন হয়েছে।' কিংবা যদি স্রষ্টার সৃষ্টি কর্তৃক কোন মহৎকর্ম রণ করে তার সমাধিতে বাগানের সুন্দর ফুলটি এনে রাখে, তবে সমুদ্রের চেয়েও গভীর মনের অধিকারী স্রষ্টার মনে ছায়াপাত সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। ইহলোকের ক্ষুদ্রজ্ঞানসম্পন্ন সন্ত নিবাৎসল্য পুঁছকে মা যে বিষয়টি পানির মতো বুঝতে পারেন, সেখানে সর্বলোকের বিশাল জ্ঞানের অধিকারী রাব্বুল আলামীন সে বিষয়টি বুঝতে পারবেন না কেন? তিনিই তো বলেছেন, 'ওয়া আসিনু ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুহসিনীন' অর্থাৎ, স্রষ্টার সৃষ্টিকর্মকে ভালবাসবে-যেহেতু স্রষ্টা তাদের ভালবাসেন। (সমাপ্ত)
লেখক: আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক




























