Sobar Desh | সবার দেশ ড. লিপন মুস্তাফিজ


প্রকাশিত: ০০:০৮, ২ জুন ২০২৫

আপডেট: ০০:০৯, ২ জুন ২০২৫

উপন্যাস

আকাশ মেঘলা হলেও হাসে

আকাশ মেঘলা হলেও হাসে
ছবি: সবার দেশ

(পর্ব উনিশ)

আপনি তো অনেক সাহস দেখিয়েছেন। একা একা দুইজন রুগী চলে গেলেন!

জ্বী স্যার।

আসলে সাহস না। আমার তো উপায় নেই। বাসায় দুই বাচ্চা আর বাচ্চার দাদীকে রেখে আমার সাথে তো আমার মিসেস আসতে পারবেন না। তার আবার অফিস আছে। বাচ্চাদের স্কুল কলেজ ইত্যাদি নানান কাজ আছে। আর আমার তো আর কোন ভাই নেই যে সে আমার সাথে আসবে। আমার এক ছোট বোন সে থাকে বিদেশে। বড় বোন এর এক ছেলে এক মেয়ে আর তার স্বামী তারাও যার যার কাজে ব্যস্ত। কীভাবে আসবে? তাই আমার একা আসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আর আমি তো সুস্থ, আমি বাবাকে নিয়ে ছোট একটা অপারেশন করে পাঁচ দিনের কাজ শেষ সাত দিনের ভেতরে দেশে ফিরে যাবো। আমি তো লম্বা সময়ের জন্য যাইনি। আর আমি আমার ঝামেলাগুলো একা একাই সামাল দেবার চেষ্টা করি।

বুঝতে পারছি, জবাবে বললেন।

এ রেস্তোরাঁয় লোকজন খুব একটা আসেনা। ভিড় নেই। তবুও একটু দেরি করে একজন ওয়েটার এলো। হাতে খাবারের মেনু। আমরা খাবার অর্ডার করলাম। আসলে আমার মনে আগেই ঠিক করাই ছিলো কী খাবো। আমি যাই মাঝে মাঝে আগেও যেতাম। তাই কী কী খাবার পাওয়া যায় আমার ধারনা ছিলো।

লেকের কাছে খোলা লনে বসে আছি। ঝির ঝির বাতাসে খারাপ লাগছে না। আশে পাশের টেবিলে দুই এক জোড়া প্রেমিক প্রেমিকা বসে আছে আর তেমন কেউ নেই। গ্লাসের ভিতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিতরের রুমে কেউ নেই। অবশ্য আজ ছুটির দিন না, আবার রাতের খাবারের সময় এখনো অনেক বাকী হতে পারে সে কারণে এ রেস্তোরাঁ খালি খালি।

আমি অবাক হচ্ছি স্যার অনেক আগ্রহ নিয়ে আমার গল্প শুনছেন। মনে পড়ে গেলো বিলেতের কথা। মনে হচ্ছে থেমস নদীর পাড়ে বসে অনেকটা সময় কাটিয়েছি। এখন এ পরিবেশে এ মুহূর্তে বিয়ার হলে আড্ডাটা জমতো। বিলেতের সামার খুব উপভোগ্য। দিন অনেক লম্বা ছিলো, শেষ হতো না। নারী পুরুষ উদোম হয়ে পার্কে, বীচে শুয়ে থাকতো। এ এক অন্য রকম পরিবেশ। আজ এত দিন পর এ পার্কে বসে কেন যে এমন
অনুভূতি হলো বুঝতে পারছি না। ধীরে ধীরে সূর্যটা পশ্চিমে হেলে পড়ছে। চারিদিকে গাছপালা থাকার কারণে পরিবেশটা অনেক ঠান্ডা। হঠাৎ একটা মা রাঙ্গা এসে ছোঁ মেরে মাছ নিয়ে চলে গেলো। অনেকদিন পরে এ দৃশ্য দেখে ভালো লাগছে।

স্যার এর মোবাইলে কল এলো। তিনি কথা বলছেন। এ ফাঁকে আমি আশে পাশের দৃশ্য দেখছি। হাতে মোবাইল থাকা সত্ত্বেও মোবাইল থেকে নিজেকে কন্ট্রোল করছি। মোবাইল প্রতি সপ্তাহে একটা রিপোর্ট দেয় আমি প্রতিদিন কত সময় আমি স্ক্রীনে তাকিয়ে থাকি। সেটা কমাতে আমি ইদানীং এর ব্যবহার কমাতে শুরু করেছি। স্যার এর কথা শেষ হচ্ছেই না।

বেয়ারা এসে দুইটা গ্লাস দিয়ে গেল, সাথে কিছু টিস্যু।

ফোনটা শেষ করে স্যার আমাকে বললেন, সরি।

আপনার বাসায় যাবার তাড়া নেইতো। আমি প্রশ্ন করলাম।

না, নেই, আজ গল্প শুনেই যাবো।

আমি টাকা জমা করে রিসেপশনে একজনের কাছে পরামর্শ নিয়ে একজন নিউরো মেডিসিন ডাক্তার কাছে এপয়েনমেন্ট নিলাম। ডাক্তার চেম্বারেই ছিলেন। আমি সেখানে গিয়ে বাইরে বসে রইলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম যে, আমার বসতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। আশে পাশে অনেক রোগী, অনেকেই বাংলাদেশী। আমার ডাক এলো আমি গেলাম চেম্বারের ভেতরে। আমাকে ভালো করে দেখে ডাক্তার বললেন তুমি একটা আরআই
করাতে পারবে?

হ্যাঁ করতে পারবো। ঠিক আছে যাও, তুমি এটা করে আমার সাথে দেখা করবে। আমি খবর নিতে চললাম কোথায় এমআরআই করানো হয়। সব কিছু খুব সুন্দর, নিয়ম মাফিক। কোন ঝামেলা নেই, একা একা ঠিক খুঁজে বের করে ফেললাম। আমি পারলে তখনই কাজটা করে ফেলতে চাই, কিন্তু বাদ সাধলো শিডিউল। আমাকে গভীর রাতের কথা বলা হলে আমি রাজী হয়ে গেলাম।

গভীর রাতে? কেন রাজী হলেন? এক দিন পরে সকালে করলে হতো না? খুব বেশী খারাপ লাগছিলো? (চলবে,,,)

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও ব্যাংকার

শীর্ষ সংবাদ:

ইশরাক শপথ ভঙ্গ করেছেন, দাবি জামায়াতের
ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ
ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে মুখ্য: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের দাপুটে শুরু, নেপালকে হারালো ৩৩-২০ গোলে
মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন ঘোষণা ইশরাকের, এবার বাঁশের লাঠি
ইশরাকের উচিত পার্থের পদত্যাগ দাবি করা: হাসনাত
আসুসের নতুন গেমিং ল্যাপটপ উন্মোচন
মৃত্যুর আগে ভিডিওতে শিক্ষকের নাম, শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা
সচিবালয়ে বড় রদবদল, সাত সচিবের দফতর বদল
ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, তিনি বললেন ‘গুজব’
আকাশে খুলে গেলো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা, ঢাকায় জরুরি অবতরণে রোগীর মৃত্যু
একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
ঢাকায় ফিফা সভাপতির সঙ্গে বাফুফের বৈঠক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ পেতে সিভিতে মিথ্যা তথ্য পুতুলের
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে ভয়াবহ দাঙ্গা, গ্রেফতার ১৮০০
১১ ম্যাচে ৪৮ গোল, অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা