Sobar Desh | সবার দেশ জয়নুল আবেদীন


প্রকাশিত: ০২:৩১, ৮ জুন ২০২৫

প্রবন্ধ

মসজিদে ক্বিবলাতাইন

মসজিদে ক্বিবলাতাইন
ছবি: সবার দেশ

উহুদ প্রান্তরে লোহার গ্রিলে হাত রেখে সামনের শূন্য ময়দানের দিকে তাকিয়ে যখন ইতিহাস রোমন্থন করছিলাম তখন গাইড সামসু ভাই বললেন-
-এক স্থানে দাঁড়িয়ে সময় পার করে দিলে চলবে না। আরো অনেক মুসলিম স্থাপনা সামনে রয়েছে। সেসব দেখার জন্য এখনই বের হতে হবে। বলেই আবেগাপলুত অবস্থায় আমাকে টানতে টানতে গাড়ির কাছে নিয়ে আসে।

মদিনার উত্তর-পশ্চিম দিকে মসজিদে নববী থেকে কম-বেশি সোয়া তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মসজিদে ক্বিবলাতাইন। খালিদ-বিন-ওয়ালিদ ও আবু বকর সিদ্দিক নামীয় উভয় সড়ক দিয়েই এ মসজিদে যাওয়া যায়।
খালিদ-বিন-ওয়ালিদ সড়কের লাগ দক্ষিণ পাশে রাস্তা থেকে খানিকটা দূরে উঁচু টিলার উপর স্থাপিত মসজিদটির চারপাশে খেজুর গাছ ছাড়াও নানা প্রকারের গাছপালা রয়েছে। এ মসজিদের পূর্ব দিকের আমির আবদুল্লাহ সড়কের পরেই দ্বিতীয় রিংরোড এলাকা। আমরা ক্বিবলাতাইন মসজিদে দু'রাকাত নামায আদায় করি। নামায আদায়ের পর গাইড সামসু ভাই মেহরাবের পেছন দিকের দেয়ালের উল্টো দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে-
- দেখেন, ওখানেও একটা মেহরাব রয়েছে।
- এর কারণ কি?
- কারণ হলো, ইবনে সা'দ উল্লেখ করেন, নবী করীম (স.) বনী সালমার এলাকায় বিশর বিন বারা বিন ‘মারুর’ এর মায়ের জিয়ারতে যান। তিনি রাসূলের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। সেখানে জোহরের নামাযের সময় হলে সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে জামায়াতে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে শুরু করেন। নামায চলাকালীন সময় আল্লাহর ওহী নাজিল হয়। ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ-তায়ালা বলেন-
–‘আমি দেখি যে, তুমি সমস্ত মেঘ, গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য, নীহারিকা, সৃষ্ট সুদীর্ঘ জ্যোতির্ময় বেষ্টনী বা ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও অন্যান্য নিদর্শনসমূহ ধারণকৃত মহাকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করিতেছ। সুতরাং আমি এখন এমন দিক-নির্দেশনা স্থির করে দিতেছি যাহা তুমি পছন্দ করিবে; সুতরাং পবিত্র মসজিদ (মসজিদে হারাম)-এর দিকে তোমার মুখ ফিরাও।

তোমরা সকলে যেখানেই থাক (নামাযের সময়) উহার দিকে মুখ ফিরাইও (সূরায়ে আল-বাকারা। আয়াত ১৪৪)।

আল্লাহর নিকট থেকে ওহী প্রেরণের পর রাসূল (স.) নামায আদায়রত অবস্থায় কেবলা পরিবর্তন করে নিলেন। তাঁর ইঙ্গিত পেয়ে সাহাবায়ে কেরামগণও কেবলা পরিবর্তন করে নেন। সেদিন থেকেই সেখানে বরকতের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটি মসজিদ তৈরি করা হয়। এ মসজিদে প্রথম দিকে দুটি মেহরাব বিদ্যমান ছিল- যার একটি কা'বা মুখী আর অপরটা বাইতুল মোকাদ্দাস (জেরুজালেম অবস্থিত আল আসকা মসজিদ) মুখী।
পরে বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকের মেহরাবটিকে দেয়ালে পরিণত করে তাতে এ ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বাদশা ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের আমলে মসজিদের প্রসার ও পুনঃনির্মাণ করা হয়। এতে রয়েছে দুটি মিনার ও দুটি গম্বুজ। এর মোট আয়তন ৩৯২০ বর্গ মিটার।

লেখক: আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক
 

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

যুদ্ধ চাই না, তবে প্রস্তুত আছি: ইরানের স্পিকার
গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গ টানতেই ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
ইংল্যান্ডকে হারিয়েই ফের ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে আর্জেন্টিনা
হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, ফিরলেই গ্রেফতার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
গণভোটের চার প্রশ্ন না বুঝলে ৩১ দফা বুঝলো কীভাবে-প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
নৌবাহিনীর নতুন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মিসবাহ উল আজীম
রাবিতে ‘ছাত্রলীগমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে প্রতীকী ‘দে ধাওয়া’ কর্মসূচি
ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোনও ছাড় নয়-আবু সাঈদের কবরের পাশে ছাত্রদলের প্রতিজ্ঞা
মিঠামইনে কুপিয়ে হত্যা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে
দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী