Sobar Desh | সবার দেশ জয়নুল আবেদীন


প্রকাশিত: ২২:৪৮, ১৫ জুন ২০২৫

প্রবন্ধ

সাত মসজিদের এলাকা

সাত মসজিদের এলাকা
ছবি: সবার দেশ

সবুজ গাছগাছালির অবুঝ মায়া পেছনে ফেলে আবার পাহাড়ি এলাকা শুরু হয়। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে কিছুদূর গিয়েই থেমে যায় গাড়ি। এখানে সামনে ডান দিকের উঁচু ভূমিতে একটি মসজিদ। মসজিদের সামনে খোলা চত্বর। চত্বরের পাশ দিয়ে ডান দিকে অগ্রসর হলেই মহিলাদের নামায আদায়ের স্থান। প্রত্যেক মসজিদেই মহিলাদের নামায আদায়ের জন্য পৃথক স্থান রয়েছে। মসজিদের পেছনে, ডানে ও বামে পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে চুনকাম করা ছোট ছোট ঘর। কোনো কোনো ঘরের উপরে রয়েছে ছোট আকারের গম্বুজ। গাইড সামসু ভাই আমাদের উদ্দেশ্যে- আশপাশে ও দূরে ছোট-বড় যা দেখছেন তার সবগুলোই মসজিদ।

এতো ঘন ঘন ও ছোট ছোট মসজিদ উত্তোলনের কারণ কি?

এর কারণ বলতে হলে খন্দকের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে হয়। উহুদের যুদ্ধের পর মদিনার বনু-কাইনুল এবং বানু-নজীর গোত্রকে সন্ধির শর্ত খেলাফের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত করে মদিনা থেকে নির্বাসন দেয়া হয়। সেই নির্বাসিত গোত্রদ্বয় ও যাযাবর বেদুঈনরা মদিনার আশেপাশে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনসহ লুটতরাজ করতো। এর ফলে সৎ ও সুন্দর জীবনে অশান্তি ও অস্বস্তির সৃষ্টি হতো। এ কারণে ইসলাম তাদের কার্যকলাপকে সমর্থন করতো না। এই উচ্ছৃঙ্খল দুই সম্প্রদায় এবং মক্কার কোরেশগণ উহুদের যুদ্ধে মহানবী (স.) আহত হয়েও নিহত না হওয়ার আক্রোশে তিন শক্তিসহ ইসলাম ও রাসূল (স.)-এর শত্রু, যারা এতোদিন বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়েছিল তারা একত্রিত হয়ে হযরত (স.) সহ ইসলামকে নির্মূল করার সংকল্প করে। তারা দশ হাজার সৈন্যসহ বিশাল আয়োজন নিয়ে মদিনা শহরকে ধূলিসাৎ করতে অগ্রসর হয়। 

মহানবী (স.) এ খবর আগেই অবগত হয়ে মাত্র তিন হাজার সৈন্য সংগ্রহ করে কিভাবে দশ হাজার সৈন্যের মোকাবেলা করা যায় এ বিষয়ে সাহাবাদের সাথে আলোচনা করেন। ইরানের জনৈক মুসলমান সালমান ফারসির পরামর্শে মদিনার অরক্ষিত স্থানসমূহে গভীর পরিখা (খন্দক) খনন করে আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতি নেয়া হয়। নারী ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে রেখে সৈন্যগণকে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে নগর রক্ষার কাজে নিযুক্ত করা হয়। বিভিন্ন উপদলে নিযুক্ত বিশিষ্ট যোদ্ধাগণ নামাযের সময় হলে স্থানচ্যুত না হয়ে যে যেখানে ছিল সে সেখানেই নামায আদায় করে নিতেন। যোদ্ধারা যেখানে যেখানে নামায আদায় করতেন তাদের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে সেখানে সেখানেই মসজিদ নির্মাণ করে রেখেছে। বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ও ঘটনার মর্মানুসারে সাতটি মসজিদের নামকরণ করা হয়। কাছাকাছি সাত মসজিদের অবস্থান হেতু এলাকার নামকরণ করা হয় সাত মসজিদ এলাকা।

মসজিদে নববী থেকে সোজা উত্তর-পশ্চিম দিকে দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে আল-খন্দক ও জাবালসালার পাহাড়ি এলাকা। আল-খন্দক ও জাবালসালা এ দু’এলাকার মাঝখানেই ছিল পরিখা বা খন্দক। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে খন্দকের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিধায় জাবালসালা এলাকায় এ যুদ্ধের স্মৃতি- চিহ্ন হিসেবে ছোট ছোট সাতটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

খন্দকের যুদ্ধের বিজয়ের সংবাদ আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে সর্ব প্রথম যে স্থানে জানিয়েছিলেন সে স্থানের মসজিদটির নাম মসজিদে ‘ফাতাহ’। ‘ফাতাহ’ শব্দের অর্থ হলো ‘বিজয়’। এখানে ফাতাহ, আবু বকর (রা.), উমর (রা.) ও আলী (ক.) এ রকম সাতটি নামকরণের সাতটি মসজিদ নিয়েই সাত মসজিদ এলাকা। এই সাত মসজিদ আল-খন্দক মসজিদ নামেও বিশেষভাবে সুপরিচিত। এখানে দর্শনার্থী নামাযীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে শুরু করলে ছোট ছোট মসজিদে সংকুলান না হওয়ায় এখানকার সাতটি মসজিদের মধ্যে বড় মসজিদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। বড় মসজিদটি যুগে যুগে সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পুনঃনির্মাণ হতে হতে বর্তমানে প্রকাণ্ড মসজিদে রূপান্ত রিত হয়েছে। যার একদিকে মহিলা ও অপরদিকে পুরুষগণ নামায আদায় করে থাকে। অত্র এলাকায় আবি-থার-আল-গাফার নামে আরো একটি মসজিদ রয়েছে। আবি-থার-আল-গাফার মসজিদের সাথেও জড়িয়ে রয়েছে ইসলামের স্মৃতি।

মসজিদে নববীর ঠিক দক্ষিণ দিকে কম-বেশি তিন কিলোমিটার দূরে ইসলামের স্মৃতি জড়িত আল-জুম'আ মসজিদ অবস্থিত। নবী করীম (স) মদিনা এসে সর্ব প্রথম যে মসজিদে জুম্মার নামায আদায় করেছিলেন সে মসজিদের নামই মসজিদে জুম'আ। এ মসজিদের আরো কয়েকটি নাম রয়েছে- যেমন, বনি সালেম, আল-গোবাইল ও আতেকা। রাসূল (স.) কু’বায় কিছুদিন অবস্থান করে মদিনার দিকে আসছিলেন তখন তিনি এ স্থানে সর্ব প্রথম জুম'আর নামায পড়ান। অতঃপর সাহাবাগণ এ স্থানে মসজিদ নির্মাণ করেন। বাদশা ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের আমলে মসজিদটি নব নির্মাণ ও প্রসারণের কাজ সমাপ্ত হয়।

লেখক: আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন