চাঁদাবাজদের তথ্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী, মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা
সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চাঁদাবাজদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর পরপরই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে নেমে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের নেপথ্যের গডফাদারদের তালিকা প্রস্তুত করতে কাজ শুরু করেছে ডিজিএফআই, এনএসআই এবং পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ-সহ বিভিন্ন ইউনিট। গত এক সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করছেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির মঙ্গলবার বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর চাঁদাবাজদের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব এ তালিকা চাওয়া হয়েছে। ঢাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আলোচিত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও চলে এসেছে চাঁদাবাজিতে। তালিকা হাতে পেলেই দেশজুড়ে অভিযান শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।
আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনও নির্দিষ্ট দল নেই। অনেকেই নিজেদের সুবিধার জন্য রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে থাকে। আগের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ অভিযান চালাবে।
পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সব গোয়েন্দা সংস্থাকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাহিনী প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তথ্য চাওয়ায় এসব কার্যক্রমের সুস্পষ্ট তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সড়ক ও ফুটপাত থেকে শুরু করে নদীর বালুমহাল পর্যন্ত নানা স্থানে অবৈধ দখলদারি চলছে।
গোয়েন্দা সংস্থার মতে, রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় বছরে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ অবৈধ কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ তৈরি করছে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্টন ও গুলিস্তান এলাকায় দখলদারি ও চাঁদাবাজির পেছনে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন টিটু এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু সুফিয়ান অন্যতম।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শাহবাগ থানাধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সব কার্যক্রম স্থগিত করে। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের নেতৃত্বে এলাকায় দখলদারি ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হকারদের ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করছেন।
সবার দেশ/কেএম




























