Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫২, ১২ জুন ২০২৫

আপডেট: ০০:৫৫, ১২ জুন ২০২৫

প্রশ্নের মুখে ড.ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফর

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য: ক্ষমতা সংহত করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক সমালোচনা :: বিমানবন্দরে ছিলো না কোনো ব্রিটিশ সরকারি প্রতিনিধি

প্রশ্নের মুখে ড.ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফর
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকেই এ সফরকে ‘আত্মকেন্দ্রিক মিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য দেশ ও জনগণের কল্যাণ নয়; বরং নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করা। সমালোচকদের অভিযোগ, সংস্কার ও রূপান্তরের দায়িত্ব পালনের বদলে তিনি এ সফরকে রাজনৈতিক মর্যাদা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

ড. ইউনূস যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন চার দিনের একটি সফরে, যেখানে তিনি কিংস ফাউন্ডেশনের 'হারমনি অ্যাওয়ার্ড' গ্রহণ করেছেন। সফরের আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এটি একটি সরকারি সফর। সফরকালে তার ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে দেখা করার এবং পুরস্কার গ্রহণের কথা ছিল।

এছাড়াও, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা উল্লেখ করেছিলেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব। তিনি চ্যাথাম হাউজ আয়োজিত একটি সংলাপেও অংশ নেবেন বলে জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল, এ সফরে যুক্তরাজ্যের সমর্থন অর্জন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। কিন্তু সফরের শুরুতেই তিনি লন্ডনে প্রবেশের সময় ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন।

একইসঙ্গে, গণমাধ্যম ও হাই কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ব্রিটিশ সরকারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সাধারণত রাষ্ট্রীয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতে সে দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। অথচ, ইউনূসের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি দেখা যায়নি।

১০ জুন হাই কমিশনে আয়োজিত সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন, তাই কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, স্টারমার সেদিন ব্রিটেনে ছিলেন এবং ডাউনিং স্ট্রিটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেন।

এই তথ্যের বিপরীতে লন্ডনের ল’ম্যাট্রিক সলিসিটর্সের ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দীন সুমন বলেন, প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য মিথ্যা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনেই ছিলেন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে, সফরের সূচি অনুযায়ী বুধবার ড. ইউনূস যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর চ্যাথাম হাউজে এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের পরিচালক বেন ব্ল্যান্ড এবং গবেষক ড. চিয়েটিগ বাজপেয়ির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুপুরে তিনি চ্যাথাম হাউজে বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন এবং সংস্থার পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেন।

সন্ধ্যায় তিনি সেন্ট জেমস প্যালেসে ‘দ্য কিংস ফাউন্ডেশন’-এর ৩৫তম বার্ষিক নৈশভোজে অংশ নেন। যদিও এটি ছিল একটি বড় ধরনের সামাজিক ও প্রতীকী অনুষ্ঠান, কোনো সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রীয় আলোচনার অংশ হিসেবে নয়।

এদিকে, ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন কেয়ার স্টারমার ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। সেখানে বলা হয়েছে, ইউনূস এখন আর শুধু একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তি নন; তিনি একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান, যেটি একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। লেখক যুক্তি দিয়েছেন, তার প্রশাসন বর্তমানে ধর্মীয় কট্টরপন্থিদের সঙ্গে আপস করছে, যা দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির জন্য হুমকি।

নিবন্ধে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৌল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন আয়োজন এবং গণতন্ত্র পুনঃস্থাপন। কিন্তু ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিকে উপেক্ষা করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাবর হানিও একটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, এটি ড. ইউনূসের ১০ মাসে ১১তম বিদেশ সফর, যার উদ্দেশ্য মূলত নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। তিনি দাবি করেন, ইউনূসের সফরে রাজা চার্লস, কেয়ার স্টারমার এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। তার মতে, মূল লক্ষ্য হলো নিজেকে বাংলাদেশের ‘ডি ফ্যাক্টো’ নেতা হিসেবে তুলে ধরা, সাময়িক প্রধান হিসেবে নয়, বরং একটি স্থায়ী রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আসলেই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব কি শুধু সংস্কার ও নির্বাচন আয়োজন, নাকি এর আড়ালে ক্ষমতা সংহত করার চেষ্টা চলছে? একদিকে জাতীয় সংলাপ ও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে বিদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত প্রচার—এই দুইয়ের মাঝে তৈরি হয়েছে বিশ্বাসযোগ্যতার বড় সংকট।

সবার দেশ/এফএস


 

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন