Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৪৬, ১৩ জুন ২০২৫

আপডেট: ০১:৪৭, ১৩ জুন ২০২৫

টিউলিপের কূটচালে কূটনৈতিক ফাঁদে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

টিউলিপের কূটচালে কূটনৈতিক ফাঁদে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?
ফাইল ছবি

ফ্যাসিস্ট শাসনের উত্তরাধিকারী, বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী—তার রাজনৈতিক অবস্থান ও আত্মীয়তার বলয়ের বাইরে গিয়েও এখন ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের মুখে। গুঞ্জন উঠেছে, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মধ্যকার এক নির্ধারিত বৈঠক নাকচ করে দিতে তিনি কৌশলগতভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। 

তার এ অপকর্মে শুধু ইউনূস নয়, বরং অচিরেই বেকায়দায় পড়তে পারেন স্বয়ং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ড. ইউনূস গত ৯ জুন ব্রিটিশ রাজার আমন্ত্রণে লন্ডন সফরে যান এবং বাকিংহাম প্যালেসে আয়োজিত হারমনি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সফরের আগে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি লেবার পার্টির নেতা ও সদ্য নির্বাচিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তবে তার লন্ডন আগমনের পরপরই ওই বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

এদিকে টিউলিপ সিদ্দিক এক চিঠির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে হাউস অফ কমন্সে আমন্ত্রণ জানান চা চক্র বা ডিনারে অংশগ্রহণের জন্য। কিন্তু ড. ইউনূস স্পষ্টভাবে সে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। এতে টিউলিপ চরম হতাশা ও বিব্রতবোধ করেন বলে জানা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সে প্রত্যাখ্যানই তাকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সক্রিয় করে তোলে এবং তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর কৌশলগত চাপ প্রয়োগ শুরু করেন যাতে ইউনূসের সাথে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হয়।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টিউলিপ সিদ্দিকীর অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি মূলত ড. ইউনূসের লন্ডন উপস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান। কারণ, ড. ইউনূসের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর একটি সফল বৈঠক হলে একদিকে যেমন বাংলাদেশে চলমান অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আরও জোরালো হতো, তেমনি শেখ হাসিনাসহ তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে থাকা অর্থপাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে উত্থাপন হতো।

বিশেষ করে টিউলিপ নিজেও যেহেতু শেখ হাসিনার ভাগ্নি, তাই রাজনৈতিকভাবে ও পারিবারিকভাবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আর ইউনূস যদি স্টারমারের সঙ্গে একান্তে বৈঠকে এ অভিযোগগুলো উপস্থাপন করতে পারতেন, তবে তা শুধু টিউলিপ নয়, গোটা প্রবাসী আওয়ামীপন্থী লবির জন্যও এক বড় বিপর্যয় ডেকে আনতো।

এদিকে টিউলিপের কূটকৌশলের মধ্যেও ড. ইউনূস থেমে থাকেননি। তিনি ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ব্রিটিশ রাজার সঙ্গেও একান্ত আলোচনায় মিলিত হয়েছেন। তাছাড়া, লন্ডন সফরে থাকা অবস্থায় ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেছেন একাধিক ব্রিটিশ এমপি, যা প্রমাণ করে তিনি উপেক্ষিত নন—বরং তার কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে অনেক বেশি।

সে প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না হলে সেটা রাজনৈতিকভাবে স্টারমারের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ব্রিটেনের অবস্থান ও আগ্রহ প্রকাশ্যে স্পষ্ট, এবং আন্তর্জাতিক মহলেও ইউনূসকে বর্তমানে ট্রানজিশনাল ডেমোক্রেসির একটি প্রধান মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে স্টারমারের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে ড. ইউনূসকে উপেক্ষা করা হলে তা ব্রিটেনের বৈদেশিক কূটনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে।

ব্রিটেনের রাজপরিবার ও পার্লামেন্টের একাধিক স্তরের সঙ্গে ইউনূসের সাক্ষাৎ ইতোমধ্যেই তার সফরকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক জয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে একটি প্রতীকী বৈঠকই বাকি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, টিউলিপ সিদ্দিকী যদি তার আত্মীয়তা ও ব্যক্তিগত অপমানের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক বিবেচনাকে প্রভাবিত করে থাকেন, তাহলে তা কেবল স্টারমার নয়, পুরো লেবার পার্টির জন্যই ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

বলা হচ্ছে, এখনও সময় আছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চাইলে অল্প সময়ের জন্য হলেও ড. ইউনূসের সঙ্গে একটি সৌজন্য বৈঠক করতে পারেন, যা এ সমালোচনার ঝড় থেকে তাকে বাঁচাতে পারে। অন্যথায়, টিউলিপের কূটচালে সায় দেয়ার অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা তার পক্ষে কঠিন হবে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিউলিপের এ কৌশল আগামী দিনে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের জন্যও অশনিসংকেত। কারণ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একের পর এক দেশ যখন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দিতে আগ্রহী, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এমন এক সিদ্ধান্ত গোটা ইউরোপেই নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।

সবমিলিয়ে, টিউলিপ সিদ্দিকীর ভূমিকা এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত—উভয়ের দৃষ্টিই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে।

ড. ইউনূস তার নৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। এখন দেখার বিষয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসের পক্ষে দাঁড়ান, না আত্মীয়তাবাদ ও দলের অভ্যন্তরীণ চাপে আত্মসমর্পণ করেন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন