হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত
১৫ ঘণ্টা বন্ধ সিলেটের রেল যোগাযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ টানা ১৫ ঘণ্টা ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, বাতিল করা হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রা।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী ১৬ বগির একটি ডিজেলবাহী ট্রেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে অন্তত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বগি পাশের একটি সেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাইনচ্যুত হওয়ার পর কয়েকটি ট্যাংকার থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তেল সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে ভিড় জমালে পরিস্থিতি কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দে বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়, যা আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতি, রেললাইনের ত্রুটি এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারগুলোতে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিলো, যার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি ইতোমধ্যে নষ্ট হয়েছে। উদ্ধারকাজের অংশ হিসেবে দুটি বগি ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রভাবে সিলেট-ঢাকা রুটের উপবন এক্সপ্রেস, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























