৫ আগস্টের পর আ.লীগের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ ৫ আগস্টের পর কার্যত শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে যারা দলটিকে পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে আওয়ামী লীগের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত ঢাকা মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর গুম, খুন এবং নির্যাতন চালিয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের পরিণতিতেই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন,
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শেকড় এখন দিল্লিকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ ৫ আগস্টের পর সমাপ্ত হয়ে গেছে। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছে, তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতো হবে।
এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারায় বিএনপিও জনগণের কাঠগড়ায় রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিচার ও সংস্কারের স্বার্থে এ দুই শক্তির বিরুদ্ধে সমানভাবে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন,
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। আর সংস্কার না করায় বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এ দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আলোচিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার বিচার নিশ্চিত হয়নি। বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এখনও রাজপথে নামতে হচ্ছে, যা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং ওসমান হাদী হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে ট্রাইব্যুনালে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি হয়নি। নতুন কোনও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি এবং বিচার প্রক্রিয়াও প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, গণহত্যার বিচার এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সক্ষম এমন যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে।
সংস্কার, বিচার ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় আইনমন্ত্রী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসন ঠেকাতে না পারায় তথ্যমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুল হক এবং নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও সমাবেশে অংশ নেন।
সবার দেশ/কেএম




























