Sobar Desh | সবার দেশ ওমর ফারুক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা

প্রকাশিত: ০০:৫২, ১৩ জুন ২০২৫

কল্পনা চাকমা: সত্যি অপহরণ, না নাটক?

কল্পনা চাকমা: সত্যি অপহরণ, না নাটক?
ছবি: সবার দেশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু ঘটনা আছে—যার যত না প্রমাণ আছে, তার চেয়ে বেশি প্রচারণা আছে। ১৯৯৬ সালের ১১ জুনের রাতে বাঘাইছড়ির এক পাহাড়ি গ্রামে ঘটে যাওয়া ‘কল্পনা চাকমা নিখোঁজ’ ঘটনা এক ‘রহস্যনাটক’।

প্রায় তিন দশক হয়ে গেল, বারংবার মিথ্যাচার প্রমাণ জানা সত্ত্বেও —কল্পনা চাকমা নিয়েই বিতর্ক চলমান। প্রতিবছর এ দিনটিতে কিছু রাষ্ট্রবিরোধী  পাহাড়ি সংগঠন হৈ চৈ করেন—সেনাবাহিনী অপহরণ করেছে, রাষ্ট্র জবাব দিক, বিচার চাই! 

কে ছিলেন কল্পনা চাকমা?

নামটি বহু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলেও কল্পনা ছিলেন এক তরুণ উপজাতি নারী যিনি পার্বত্যে নারীর অধিকার, শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সংগঠনে যুক্ত হয়েছিলেন। তাতে কোনো সমস্যা ছিলোনা। ১৯৯০-এর দশকে যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিলো সশস্ত্র সংঘাতের উত্তাল সময়ের মধ্যে, তখন হিল উইমেন ফেডারেশন ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের মতো সংগঠনগুলো শান্তিবাহিনীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করতো। তখন থেকেই সমস্যার সমস্যার উৎপত্তি। 

আরও পড়ুন <<>> যে আইন রাষ্ট্রের স্বার্বভৌমত্ব ও পার্বত্যবাসীর অস্তিত্বের হুমকি

কল্পনা চাকমার জেএসএস (শান্তিবাহিনী) এর  সহযোগী ও সরাসরি সশস্ত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্তা ছিলেন। তার রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থানের কারণে তাকে নিয়েও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাঝে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছিলো। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারে সক্রিয় ছিলেন যা পরবর্তীতে সচেতন মহলের নজরে আসে।

প্রশ্ন হলো—আসলেই কি সেনাবাহিনী অপহরণ করেছিলো? নাকি গল্পটা অন্যরকম?

পাহাড়ি নারী, যিনি হঠাৎ ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠলেন!কল্পনা চাকমা ছিলেন হিল উইমেন ফেডারেশনের নেত্রী। পাহাড়ি নারী অধিকারের কথা বলতেন, সভা করতেন, বক্তৃতা দিতেন। তাতে সমস্যা ছিলো না। সমস্যা শুরু হলো তখন, যখন তিনি ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে এক চাকমা প্রার্থীর (বিজয় কেতন চাকমা) প্রচারে নেমে পড়লেন। মজার বিষয় হলো, বিজয় কেতন ছিলেন শান্তিবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী। তখন পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা লে. ফেরদৌস কয়েকটি সফল অভিযান চালিয়ে রাষ্টবিরোধী কর্মকাণ্ডে তৎপর শান্তিবাহিনীর ঘুম হারাম করে দেন। বলা হয়, শান্তিবাহিনী ঠিক তখনই একটা ছক আঁকে- লে. ফেরদৌস ও সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার।

কল্পনা কি অপহৃত? নাকি প্রেমের টানে ভারতে পলায়ন?
 
ঘটনার পরপরই কল্পনা চাকমার পরিবার অভিযোগ করে—সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এর আগের বক্তব্যে বলেছিলেন শান্তিবাহিনী অপহরণ করেছে। জেএসএস এর শান্তিবাহিনীর হুমকির মুখে পড়ে সেনাবাহিনীর উপর দায় ছাপিয়ে দেন।

অন্যদিকে কিছু পাহাড়ি সূত্র, এমনকি বেশ কিছু সাবেক পিসিপি নেতা বলেন—কল্পনা আসলে পালিয়ে গিয়েছিলেন নিজের প্রেমিক অরুণ বিকাশ চাকমার সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরায়। কারণ:-

  • পরিবার ওই সম্পর্ক মানেনি
  • শান্তিবাহিনীও কল্পনার ওপর কোনো কারণে ক্ষুব্ধ ছিলো।

এ সূত্রে জানা যায়, কল্পনার ‘নিখোঁজ’ হওয়ার আগের দিন তার নিজের সংগঠনের কয়েকজন নেতা তাকে চুপিচুপি ভারতে পার করে দেন। এরপর থেকে শুরু হয় ‘অপহরণ নাটক’।

প্রশ্ন উঠবেই...

  • কল্পনা চাকমার মায়ের সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে বারবার ভিন্ন বক্তব্য কেনো?
  • এতোবছর ধরে যদি সেনাবাহিনীই অপহরণ করে থাকে, তাহলে কল্পনার কোনো চিহ্ন মেলেনি কেনো?
  • প্রেমিক অরুণ বিকাশ চাকমাও কেনো আজ অবধি গা ঢাকা দিয়ে আছেন?
  • রাজনৈতিকভাবে এ ‘অপহরণ কাহিনী’ ব্যবহার করে কারা লাভবান হলো?

‘নিখোঁজ’ কল্পনা এখন রাজনৈতিক অস্ত্র! 

আজও প্রতিবছর কিছু পাহাড়ি সংগঠন ‘কল্পনা চাকমা দিবস’ পালন করে। ফেসবুক-টুইটারে ঝড় ওঠে—‘রাষ্ট্র নারীকে গুম করেছে’! কিন্তু কেউ বলছে না—এটা যদি সাজানো গল্প হয়, তাহলে এর জবাবদিহিতা কে দেবে?

একদিকে প্রতি বছর ১২ জুন ‘কল্পনা চাকমা দিবস’ পালিত হয়, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়; জাতীয়তাবাদী শক্তি ও দেশপ্রেমিক সাধারণ উপজাতি ও বাঙ্গালী এ ঘটনাকে শান্তিবাহিনীর কৌশলী অপপ্রচার হিসেবে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা করেন। আমরা সত্য জানতে চাই। চাই না পক্ষপাতদুষ্ট প্রোপাগান্ডা। চাই না রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা অথবা গোলাপী চশমায় সাজানো ইতিহাস। অপহরণের দীর্ঘ ২৯ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কোনো অপহরণের তথ্যের প্রমাণ মেলেনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। কল্পনা চাকমা দেশে আসার জন্যে একাধিক চিঠি দিয়েও আসতে পারেনি। কারণ ভারত থেকে বাংলাদেশে আগমনের বার্তায় কল্পনা চাকমাকে প্রাণনাশ হুমকি দেন জেএসএস শান্তি বাহিনী থেকে।

পরিকল্পিত ১৯৯৬ সালে ঘুমন্ত এক গ্রামের নিস্তব্ধতা ভেদ করে মিথ্যাচার খবর ছড়িয়েছে—কল্পনা চাকমা নিখোঁজ। পরদিন সকালের আলোয় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লংগুদু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে উদ্দেশপ্রনোদিত ভাবে। তৎকালীন শান্তিবাহিনী-ঘনিষ্ঠ নারী সংগঠন ‘হিল উইমেন ফেডারেশন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদিকা কল্পনা চাকমা। এ ঘটনাটি যেমন পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে গভীর ছাপ ফেলেছে, তেমনি গড়ে তুলেছে বিপরীতধর্মী বয়ান। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে নারীর  ‘সাজানো নাটক’, ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’।

সূত্রঃ দৈনিক আজাদি, দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক পূর্বকোণ। 

লেখক: ওমর ফারুক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।
omarfaruk7067294@gmail.com

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন