এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা
হাসনাতের বক্তব্যে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বক্তব্যের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ না করলে শনিবার (২৯ আগস্ট) এনসিপির নির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা। রাতে শহরের জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল বের হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল ও সমাবেশে এনসিপি এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আলেম-উলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের বিভিন্ন ঘটনার জন্য দায়ী করার ‘পুরোনো সংস্কৃতি’ তারা আর দেখতে চান না। তাদের অভিযোগ, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় আলেম-উলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের যেভাবে দোষারোপ করা হতো, একই ধরনের প্রবণতার পুনরাবৃত্তি তারা মেনে নেবেন না।
বক্তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে উচ্চ শব্দে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাদের দাবি, নৌকাবাইচ বন্ধের পেছনে এলাকার কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিলো। অথচ সংসদে দেয়া বক্তব্যে এ ঘটনায় ‘তৌহিদি জনতাকে’ দায়ী করা হয়েছে।
কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতারা বলেন, কোনও ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি যাচাই-বাছাই ছাড়া আলেম-উলামা বা তৌহিদি জনতার ওপর দায় চাপানোও অনাকাঙ্ক্ষিত।
তবে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ব্যক্তিগতভাবে শত্রু মনে করেন না বলেও জানান বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মধ্যে কোনো বিভেদ বা সংঘাত চান না তারা। বরং তারা ঐক্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ চান।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য,
আমরা ঐক্য চাই, সম্প্রীতি চাই। তবে বক্তব্যে যদি ‘তৌহিদি জনতা’ ও আলেম-উলামা অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।
তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শক্তির মধ্যে ঐক্য চান তারা, সংঘাত নয়। তবে ইসলাম ও আলেম-উলামাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপের কোনও প্রবণতার সঙ্গে আপস করা হবে না।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, রাতে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এরপর শহরে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
কওমি ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দেয়ায় শনিবারের ওই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সবার দেশ/এফও




























