কুমিল্লা-৪ এ কঠিন চ্যালেঞ্জে এনসিপি
হাসনাতের বিরুদ্ধে বিএনপি-আ.লীগ-জাপা একাট্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনটি শুরুতে অনেকটা একমুখী মনে হলেও শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির প্রার্থী না থাকায় শুরুতে জামায়াত ঘরানার ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে ‘নিশ্চিত বিজয়’-এর আলোচনা ছিলো। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৌখিক নির্দেশনার পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিনের পক্ষে ট্রাক প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একটি অংশও তাকে সরব সমর্থন দিচ্ছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। ফলে ভোটের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে এবং হাসনাত আবদুল্লাহ এখন সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে।
এলাকাবাসীর মতে, বিএনপি যদি সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে হাসনাতের জয় সহজ হবে না। এনসিপি নতুন দল হওয়ায় তাদের নিজস্ব শক্ত ভোটব্যাংক সীমিত। তার মূল ভরসা নিরীহ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভোট এবং জামায়াতে ইসলামীর ভোট, যা ৪৫ থেকে ৫০ হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ভোট এককভাবে ধরে রাখতে পারলে তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে।
দেবিদ্বারের রাজনীতিতে মুন্সী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী। এ পরিবার থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হলেও তার রাজনৈতিক প্রভাব এখনও বিদ্যমান। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম তারেক মুন্সীসহ দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ট্রাক প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার দেবিদ্বারের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক প্রতীকের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন,
দুর্ঘটনাবশত এবার ধানের শীষ নেই। ট্রাকে ভোট দিন। ট্রাক জিতলেই ধানের শীষ জিতবে।
আজ রোববার গোমতী নদীর পূর্বপারের কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাদের প্রচারে নামার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষেও নেপথ্যে বড় দুই দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা কাজ করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার তার পক্ষে সক্রিয় রয়েছেন।
মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৫৪ জনের এ আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৪৮ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬০৩ জন। পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধিত হয়েছে ১০ হাজার ১০৫টি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটার মিলিয়ে আনুমানিক তিন লাখের মতো ভোট রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আওয়ামী লীগের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না গেলেও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার সক্রিয় ভোট এখন হাসনাতকে ঠেকাতে বিএনপি ও জাপাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চরমনাইয়ের ভোট ৫ থেকে ৬ হাজার এবং অন্যান্য ছোট দলের মিলিয়ে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার ভোট রয়েছে। সব মিলিয়ে দেবিদ্বারের নির্বাচনি সমীকরণ এখন জটিল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে দেবিদ্বার বিএনপির ঘাঁটি। জোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থাকায় আমি আশাবাদী।
অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
ভোটের মাঠে কাউকেই দুর্বল মনে করছি না। জনগণের ওপরই আমার আস্থা।
এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল করিম ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইতোমধ্যে হাসনাতকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সবকিছু মিলিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে গিয়ে ভোটের লড়াই এখন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপ নিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























