Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০৫, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী আন্দোলন

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী আন্দোলন
ছবি: সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে আসন বণ্টন নিয়ে জোটের শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলে। আলোচনায় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত ৮০টি আসন নিশ্চিত না হলে তাদের পক্ষে জোটে থাকা সম্ভব নয়। এ দাবিকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাদে জোটের অন্য শরিকরা আলাদাভাবে বৈঠকে বসেন।

এ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক চরমোনাই পীরের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন। তবে আসন সমঝোতায় তিনি ব্যর্থ হন। পরে গভীর রাতে জামায়াতের একজন শীর্ষ নেতাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন তিনি।

জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—তারা আর জোটে থাকতে পারছেন না। তবে ইসলামী আন্দোলন সরে গেলেও অন্য শরিক দলগুলো জোটে থাকার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে রূপ নিতে যাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এ বৈঠকের পর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খেলাফত মজলিসের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাকি শরিকরা জোটগত ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু আসনে পুনর্বিন্যাস হতে পারে, তবে তাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দেবে না।

জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপির অন্তর্ভুক্তিকে দলটি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। একপর্যায়ে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের অন্তত ১৪৩টি আসনে শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং জামায়াত ও এনসিপির প্রভাবশালী নেতাদের আসনও তারা দাবি করে।

প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছাড় দেওয়া হয়, পরে তা বাড়িয়ে ৪৫ করা হয়। পাশাপাশি আরও ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও দলটি ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে। অন্য শরিকরা চরমোনাই পীরকে রাজি করানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। জামায়াতের পক্ষ থেকেও ৮০টি আসন ছাড় দেওয়া সম্ভব ছিল না বলে নেতারা জানান। কারণ এত বড় ছাড় দিলে সম্ভাবনাময় আসন হারানোর পাশাপাশি অন্য শরিকদের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত দাবির চাপ তৈরি হতো।

এ প্রেক্ষাপটে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে শেষ দফা সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৬৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আসনে দলটি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানা গেছে।

জোট ভাঙনের গুঞ্জন কয়েক দিন ধরেই চলছিল। বুধবার বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৪টায় জামায়াত জোটের সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও চরমোনাই পীরের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় তিনি সেখানে যোগ দিতে অপারগতা জানান। ফলে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হয়। রাতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের জোটে সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করলেও তা কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে পরবর্তী সময়েও সমঝোতা না হওয়ায় আজ সকালে জোট ভাঙনের বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

সবার দেশ/এফএস 

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে লাভ নেই: রিজওয়ানা হাসান
ট্রাম্পকে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, তেহরানের বার্তা ঘিরে উত্তেজনা
অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল
বাজার স্থিতিশীল করতে এলপি গ্যাস আমদানির পথে সরকার
ঢাকার তিন পয়েন্টে ফের অবরোধে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা
সিলেট সীমান্তে বিস্ফোরকের রহস্যজনক প্রবেশ: নাশকতার আশঙ্কা
পাঁচ ঘণ্টার স্থগিতাদেশ শেষে ইরানের আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী আন্দোলন
শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট
নাজমুলের পদত্যাগে অচলাবস্থা: না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় ক্রিকেটাররা
এনআইডির গোপন তথ্য পাচারে কোটি টাকার কারবার: দুইজন গ্রেপ্তার
বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক