ট্রাম্পকে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, তেহরানের বার্তা ঘিরে উত্তেজনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য ও কড়া ভাষায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বার্তায় ট্রাম্পের একটি রক্তাক্ত ছবি দেখিয়ে লেখা হয়, এবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে না।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা এএফপির বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে এটাই সবচেয়ে সরাসরি ও প্রকাশ্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে ২০২৪ সালের একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর হামলার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়। ওই ঘটনায় বন্দুকধারী থমাস ক্রুকস ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তার কানে আঘাত লাগে। এ ঘটনার প্রতীকী ছবি ব্যবহার করে হুমকির বার্তাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়নের সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ ধরনের প্রচার ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগেও ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি ঘিরে ইরানের নাম এসেছে। ২০২২ সালে ইরানি শাসনব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট এক ভিডিওতে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো গলফ কোর্সে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার একটি কাল্পনিক দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। পরে একই এলাকায় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগে রায়ান রাউথ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ভিডিওটি নতুন করে আলোচনায় আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি ষড়যন্ত্রে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ফারহাদ শাকেরি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ পরিকল্পনার দায়িত্ব দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারপন্থি সমাবেশগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সবার দেশ/এফএস




























