ইনুর ১০ বছরের সাজা যথেষ্ট নয়: এনসিপি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডকে ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে অবিলম্বে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। বিবৃতিতে জুলাই গণহত্যা ও গুম-সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে প্রমাণিত অপরাধের মাত্রা, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের নিরিখে এ সাজা ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
দলটির ভাষ্য, হাসানুল হক ইনু কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধী নন। তিনি বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে এবং দীর্ঘদিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতাসীন সরকারের গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভিন্নমত দমনে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণমূলক আইনি কাঠামো তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বৈঠকগুলোতেও তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
এনসিপি দাবি করেছে, ট্রাইব্যুনালের রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরি করে আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়া, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার বিষয় রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিটি অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা ঘোষণা করা হলেও সাজাগুলো একযোগে কার্যকর হওয়ায় বাস্তবে ইনুকে মাত্র ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। নির্যাতন, গুরুতর জখম, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার পরও এ শাস্তি অস্বাভাবিকভাবে লঘু বলে মনে করে এনসিপি।
দলটি আরও বলেছে, ইনুর অপরাধের প্রকৃতি, ভুক্তভোগীর সংখ্যা এবং এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ট্রাইব্যুনাল যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে পারেননি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ রায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
এনসিপি রাষ্ট্রপক্ষকে দ্রুত আপিল করে অপরাধের মাত্রা ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দলটির অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রিতা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণায় বিলম্ব এবং বহু মামলার তদন্ত অসমাপ্ত থাকায় বিচার প্রক্রিয়ার গতি ও তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এনসিপির মতে, ক্ষমতাসীন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জুলাই গণহত্যা ও গুমের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা বা গাফিলতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
বিবৃতির শেষাংশে দলটি জুলাই গণহত্যা ও গুম-সংক্রান্ত সব মামলার তদন্ত ও বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় ও তদন্ত সংস্থায় পর্যাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সবার দেশ/এফও




























