জাতীয় ঐকমত্যে গলা মিলালো ১০ দল
পিআর পদ্ধতিতে ভোট, ঐকমত্য না হলে গণভোট
সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতির বাইরে কোনও নির্বাচন দেশের মানুষ মানবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া সুষ্ঠু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অসম্ভব। প্রয়োজন হলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে।
শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের ১০টি ইসলামী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এই মহাসমাবেশে অংশ নেয়।
রেজাউল করীম বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী, এ সংবিধান থেকেই স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে। এবার আর ভুলের সুযোগ নেই, ইসলামপন্থিদের ঐক্যের সময় এসেছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিলো রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। অন্তর্বর্তী সরকার সে পথে থাকলে আমরা পাশে থাকবো, তবে বিচ্যুতি হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ বছরের পর বছর দুর্নীতি-নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়ছে। তাই এবার মৌলিক সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেউ জালেম হবে না, দেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের মানুষ এখন জাতীয় ঐক্য চায়। পিআর ছাড়া নির্বাচন মানা হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে দিতে হবে। শেখ হাসিনা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, পিআর ছাড়া নির্বাচন হবে না। জীবদ্দশায় কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত দিতে হবে। সংস্কার কমিশনের সিদ্ধান্ত দুই-একটি দলের ইচ্ছায় নির্ভর করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, জনগণের রক্তের বিনিময়ে দেশের জন্য নতুন পথ তৈরি হয়েছে। টেন্ডারবাজ-চাঁদাবাজদের কোনো জায়গা হবে না। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া সঠিক প্রতিনিধিত্ব সম্ভব নয়।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। মাদ্রাসার ছাত্রদের আর টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে দেয়া যাবে না।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, বিএনপি যদি জাতীয় সরকার চায়, তাহলে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন মেনে নিতে হবে।
এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সংবিধান পরিবর্তন ছাড়া কোনও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশের মানুষ মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচন চায়।
সমাবেশে দেশের বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতাদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান ১৬ দফা দাবি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
দিনভর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের ঢলে পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হয়।
সবার দেশ/কেএম




























