দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ
আজ বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের এ দিনে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।
গৃহবধূ থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা এ নেত্রী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়। ১৯৮১ সালে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। এর পর থেকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার পরিচালনা করেছেন, তেমনি বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবেও সরব ছিলেন। সমালোচকরা যখন নেতাদের বিদেশপন্থী পরিচয়ে বিভক্তির অভিযোগ তোলেন, তখন খালেদা জিয়া বাংলাদেশপন্থী নেত্রী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। একাধিক সময়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন—দেশের বাইরে তার কোনো ঠিকানা নেই; এ দেশের মাটি ও মানুষই তার সবকিছু।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ রেকর্ড হলো—জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যতবার, যতগুলো আসনে প্রার্থী হয়েছেন, প্রতিবারই সবগুলো আসনে জয়ী হয়েছেন। বিরোধী দলে থাকার সময় বহুবার কারাবাস ও নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থানে আপস করেননি। এ কারণেই তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বেগম জিয়া। তার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে তিনি শুধু বিএনপির প্রধান নন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রতীক। আজ তার জন্মদিনে দলীয় আনুষ্ঠানিকতা সীমিত রাখা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শালীনতা, দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের কারণে এখনও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তিনি। দেশ-বিদেশে তার সমর্থকরা জন্মদিনে খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
সবার দেশ/এফও




























