আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের বার্তা
রাষ্ট্র মেরামতের ভিত্তি হবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন: তারেক রহমান
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ৫ আগস্ট এক ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছে। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার। এজন্য রাষ্ট্র মেরামতের ভিত্তি হতে হবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের মূলনীতির প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান লিখেছেন, ২০০৭ সাল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়ে আসছে। এর উদ্দেশ্য গণতন্ত্রের সারবত্তা ও শক্তি সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বলেন,
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন বাকশালের আগ্রাসী থাবা থেকে। তার কালজয়ী দর্শনের মূলে ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সে দর্শনকে অগ্রসর করেছিলেন, যার জন্য তাকে বারবার স্বৈরশাসনের আক্রমণ সহ্য করতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে বারবার স্বৈরতন্ত্রের হানা ঘটেছে—রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধ গণ্য করা হয়েছে, ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। গত দেড় দশকে আওয়ামী শাসনের ফ্যাসিবাদী রূপ গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যেখানে গণতন্ত্র রক্ষার যেকোন প্রচেষ্টাই দমন করা হয়েছে।
এবারের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য—‘এ্যাচিভিং জেন্ডার ইকুইলিটি, একশন বাই একশন’। তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রে নারী-পুরুষসহ সব লিঙ্গের মানুষ সমান সুযোগ ও মর্যাদা পায়। যেখানে বঞ্চনা থাকে, সেখানে গণতান্ত্রিক সমাজে প্রতিবাদ জন্ম নেয়। ফলে ধীরে ধীরে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র হলো সর্বজনীন মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক পদ্ধতি, যা জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর নির্ধারণে তাদের স্বাধীন ইচ্ছার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। থাকবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা।
সবার দেশ/কেএম




























